Showing posts with label advise. Show all posts
Showing posts with label advise. Show all posts

Saturday, 29 April 2017

বেদ সনাতন ধর্মের প্রধান এবং আদি ধর্মগ্রন্থ।কিন্তু জীবনে একবার এই মহানগ্রন্থ পড়ে দেখা দূরের কথা, অধিকাংশই বেদকে সরাসরি প্রত্যক্ষ করার সুযোগ পান না।

নমস্কার
আমরা সবাই জানি বেদ সনাতন ধর্মের প্রধান এবং আদি ধর্মগ্রন্থ। কিন্তু প্রায় ৯০% হিন্দু তাদের জীবনে একবার এই মহানগ্রন্থ পড়ে দেখা দূরের কথা, অধিকাংশই বেদকে সরাসরি প্রত্যক্ষ করার সুযোগ পান না।
যার ফলশ্রুতিতে ধর্মের প্রতি আমাদের অনেক ভুল-ভ্রান্তি এবং অজ্ঞতা থেকে যায়। নিজেদের গৌরবের বিষয়টুকু আমাদের জানার বাইরে থেকে যায়।
যুগে যুগে অনেক জ্ঞানী, মনীষীরা বেদের শ্রেষ্ঠত্ব স্বীকার করে গেছেন।বেদকে মানব-সভ্যতার বিকাশের সর্বোচ্চ স্থান দিয়ে গেছেন।কিন্তু আমরা এই মহান গ্রন্থের চর্চা করা থেকে নিজেদের বঞ্চিত রেখেছি।
আমার মনে হয় বেদকে শুধুমাত্র একটি ধর্মগ্রন্থ ভাবলে ভুল হবে,কারন বেদে এমন অনেক বিষয়ের উপর ব্যাখ্যা করা আছে, যা আমাদের কল্পনাতীত এবং আশ্চর্যজনকও বটে।
বেদকে বলা হয় অপৌরুষেয়।অর্থ্যাৎ যা কেউ রচনা করেন নি এবং তা পরমাত্মার নিকট থেকে স্ব-নির্গত হয়েছে। আর বেদের এই শ্লোক গুলোকে মুনি-ঋষিরা প্রত্যক্ষ করেছে। তাঁরা হলেন বেদ মন্ত্রের দ্রষ্টা। বেদকে প্রধানত ৪ ভাগে ভাগ করা হয়েছে এবং অপ্রধানত ৫ ভাগে ভাগ করা হয়েছে।প্রত্যেক ভাগে নিদিষ্ট বিষয়ের উপর বিশদ আলোচনা করা হয়েছে।
তাছাড়া বেদের অনেক বিষয় বস্তু রয়েছে যা আমাদের প্রত্যেকেরই জানা প্রয়োজন। কিন্তু বর্তমানের প্রেক্ষাপটে চতুর্বেদ অধ্যয়ন করা আমাদের সকলের পক্ষে সম্ভবপর নয়।মহর্ষি বেদব্যাস তাই মানব জাতির বুঝার স্বার্থে বেদকে চার ভাগে ভাগ করে তাঁর চার শিষ্যকে ভিন্ন ভিন্ন বেদকে প্রচারের দ্বায়িত্ব অর্পন করেছিলেন। কিন্তু আমাদের পক্ষে পুরো বেদ আয়ত্ত করা সম্ভবপর না হলেও আমাদের প্রত্যেক সনাতনদের বেদ সম্পর্কে ক্ষুদ্র হলে কিছুটা ধারনা থাকা উচিত।
তাই আজ আপনাদের চার বেদের সংক্ষিপ্ত এবং প্রাথমিক ধারনা লাভের জন্য দুটো বইয়ের পিডিএফ দেব, যা থেকে আপনারা বেদ সম্পর্কে সামান্য হলে গুরুপ্তপূর্ন অনেক কিছুই জানতে পারবেন।
বইয়ের নাম-
.
১)বেদসার সংগ্রহ;
ডাউনলোড লিংক:https://db.tt/cJVNW7bq
.
২)বেদ পরিচয়;
ডাউনলোড লিংক:https://db.tt/epzWOfLS
.
উল্লেখ্য, PDF বই পড়তে গেলে Adobe Acrobat Reader এই সফটওয়্যারটি আপনার ডিভাইসে ইন্সটল করে নিতে হবে।
যাদের ডিভাইসে এই সফটওয়্যার নেই বা ডাউনলোড করতে চান, তারা এই লিঙ্কে সফটওয়্যারটি পাবেন

Friday, 14 April 2017

বেদ

বেদ

সৃষ্টির প্রারম্ভে জীবের কর্তব্য কর্ম কিরূপ হবে তা নির্ধারক হিসাবে শ্রীভগবান তার মুখ থেকে বেদরূপ চতুষ্কুমারের উৎপত্তি করেন এবং তা ব্রক্ষ্মান্ডের অধিকর্তা ব্রক্ষ্মার কাছে অর্পন করেন । কিন্তু কল্পান্তে মূর্তিমান অজ্ঞানরূপী দৈত্য বেদ চতুষ্টয়কে অপহরণ করে রসাতলে নিয়ে যায় । তখন ভগবান হয়গ্রীব (অর্ধ অশ্ব ও অর্ধ নর) রূপ ধারণ করে বেদ চতুষ্টয়কে উদ্ধার করে পুনরায় ব্রক্ষ্মাকে সমর্পণ করেন । তখন ব্রক্ষ্মা বেদগণকে তাঁর হৃদয়ে ধারণ করেন এবং পরবর্তীতে ব্রক্ষ্মা তাঁর পূর্বাদি মুখ থেকে ঋক, সাম, যজু ও অথর্ব নামক চারটি বেদ এবং এই বেদ থেকে আরো অনেক উপবেদ প্রকাশিত করেন ।
বেদ শব্দটি আসছে বিদ্ থেকে । বিদ্ শব্দের অর্থ জ্ঞান । যার মধ্যে বিদ্ বা জ্ঞান আছে তিনি বিদ-বান বা বিদ্বান (যেমন, ধন আছে যার ধনবান) ।
বর্তমানে বিদ্বান বলতে কোনো খেতাবধারী উচ্চশিক্ষিত ব্যক্তিকেই বুঝায় যা আদৌ মূল বেদের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত কি না তা সাধারণত বুঝে উঠতে পারা যায় না । কিন্তু শাস্ত্রীয় প্রমাণুসারে এমন কোন কিছু নাই যা ভগবান ব্যতিরেকে সৃষ্টি হয়েছে । ভগবানই হচ্ছেন মূল স্রষ্টা । পরে হয়তো অনেকেই ভগবদ কৃপায় ভগবানের সৃষ্টিকে আরো সুন্দর রূপ দান করেছেন । যেমন ভগবান নারায়ণ ব্রক্ষ্মাকে প্রথম ৪টি শ্লোকে ভাগবত পুরাণ বলেছিলেন যা চতুর্শ্লোকী ভাগবত বলে পরিচিতি । পরে তিনি দশ শ্লোকে নারদকে বলেন, পরবর্তীতে এই ভাগবত পুরাণই ১৮,০০০ শ্লোকে ব্যাসদেব রচনা করেন । তেমনই সমস্ত জ্ঞানের মূল ভিত্তি হচ্ছে এই চারটি বেদ যা ঋক, সাম, যজু ও অর্থব বেদ নামে পরিচিতি এবং এই বেদগুলিই মনুষ্য সমাজের কার্য নির্বাহক জ্ঞান দান করে থাকে । প্রত্যেকটি বেদেই সত্ত্ব, রজঃ ও তমঃ এই তিনটি গুণের ওপর যা বর্ণাশ্রমের অর্থাৎ ব্রাক্ষ্মণ, ক্ষত্রিয়, বৈশ্য ও শূদ্রদের জন্য সৃষ্ট যাতে তারা ক্রমান্বয়ে আরো উন্নততর স্তর লাভ করতে পারে । যেমনঃ সত্ত্বগুণের আশ্রিত ব্রাক্ষ্মণ শুদ্ধ সত্ত্বগুনের স্তরে উঠতে পারে । রজোগুণের আশ্রিত ক্ষত্রিয় ও বৈশ্যরা রজঃ বা সত্ত্বঃ গুণের স্তরে উঠতে পারে । তেমনি তমোগুণাশ্রিত শূদ্ররা ক্রমে রজঃ ও সত্ত্বঃ গুণে উঠতে পারে । তারই বিধান বেদে স্পষ্টভাবে দেওয়া হয়েছে । বেদে গুণস্তর ভেদে অনেক প্রকার যজ্ঞের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যার দ্বারা স্বর্গের দেবতাদের সন্তোষ বিধান করা যায় ।
মূলত আমরা যত প্রকার দুঃখ বা ক্লেশ পেতে থাকি তার মূল বিভাগ হচ্ছে ৩ প্রকার । আধি ভৌতিক যা অন্য প্রাণীর থেকে পেয়ে থাকি, আধ্যাত্মিক যা মন থেকে পেয়ে থাকি এবং আদিদৈবিক যা দেবতাদের থেকে পেয়ে থাকি । এই তিন প্রকার ক্লেশেরও সরাসরি নিয়ন্ত্রক হচ্ছেন বিভিন্ন দেবতা । যেমনঃ মনের থেকে যে ক্লেশ পেয়ে থাকি সেই মনের পরিচালক হচ্ছেন সোমদেব । খাদ্য হজম, ইন্দ্রিয় পরিচালনা সবকিছুই করে এক একজন দেবতার সক্রিয় পরিচালনায় । তাই দেবতাদের সন্তুষ্টি বিধানের মাধ্যমেই আমরা ক্লেশ বা দুঃখ থেকে মুক্ত হতে পারি । বেদের নির্দেশানুসারে জীবন-যাপন করলেই আমরা সুখী হতে পারি এবং এটা কর্তব্য কর্ম নিরূপণ করে ।
‘বেদপরস্থাৎ ধর্ম, অধর্মস্ত বিপর্যয় ।’
আমরা চারি বেদের প্রতিপাদ্য বিষয় নিয়ে আলোচনা করতে পারি ।

যজুর্বেদ

এর মূলত দুইটি বিভাগ, তৈত্তিরীয় বা কৃষ্ণ যজুর্বেদ এবং বাজসনেয় বা শুক্ল যজুর্বেদ । মহর্ষি বৈশস্পায়ণ এই বেদ সংকলনের মাধ্যমে সমাজ পরিচালনায় বিভিন্ন পন্থা নির্দেশ করেছেন । এতে মূলত ক্ষত্রিয় নীতি যা সাম-সন্ধি বা মৈত্রী স্থাপনের মাধ্যমে, দাম-বিবাহ বন্ধনের মাধ্যমে, দন্ড-শাসন করে বা দন্ড দিয়ে এবং ভেদ-বৈলক্ষণ বিচ্ছেদের মাধ্যমে সমাজ পরিচালনার শিক্ষা বর্ণিত আছে । এতে বিভিন্ন প্রকার অস্ত্র যথা অগ্নি, জল, বায়ু, আকাশ, অস্ত্রের আবাহন ও প্রয়োগ পদ্ধতি বর্ণিত আছে । বর্তমানে কেবলমাত্র আগ্নেয়াস্ত্র ব্যতিরেকে অন্যান্য অস্ত্রের বিলুপ্তি ঘটেছে । বাৎসায়ন ব্রক্ষ্মচারী এই যজুর্বেদের অধ্যাপনা করে কামশাস্ত্র নামক শাস্ত্র প্রণয়ন করেন যার দ্বারা সমাজে সুশৃঙ্খল পরিবার গঠনের প্রণালী বর্ণনা করেছেন । পরিশেষে শুক্ল যজুর্বেদে বাজসনেয় বিভাগে কীভাবে মানুষ নিজেকে সন্তুষ্ট রেখে আধ্যাত্মিকতার উর্ধ্বস্তরে ভগবানের সান্নিধ্য লাভ করা যায় তার বিধান বর্ণনা করে ।

অথর্ব বেদ

মহর্ষি অঙ্গিরা এই বেদের অধ্যাপক । তিনি প্রথম এই বেদকে দুইটি ভাগে ভাগ করেন । একটি আয়ুর্বেদ শাস্ত্র এবং অন্যটি বাস্তু শাস্ত্র । বাস্তু শাস্ত্রে স্থাপত্য নির্মাণ প্রণালী প্রক্রিয়াকরণ ইত্যাদি আছে । আয়ুর্বেদ চিকিৎসা প্রণালীকে মূলত দুটি ভাগে ভাগ করা হয়েছে । এগুলো হলো চরক সংহিতা ও শুশ্রুত সংহিতা । পরে মহর্ষি বাণভট্ট এই সংহিতাদ্বয় থেকে ৮টি পৃথক পৃথক গ্রন্থ প্রণয়ন করে ।
১) শল্য তন্ত্র বা অস্ত্রোপচার এবং খার অগ্নি প্রয়োগ প্রণালী ।
২) শালাক্য তন্ত্র – চক্ষু, কর্ণ, নাসিকা, জিহবা, ওষ্ঠ, দাঁত, অধর, তালু ও আলজিহবা চিকিৎসা (ent) ।
৩) কায় চিকিৎসা – জ্বর, অতিসার, রক্তপিত্ত, উন্মাদ, কুষ্ঠ, মেহ ইত্যাদির চিকিৎসা প্রণালী ।
৪) ভূতবিদ্যা – দৈত্য, নাগ, পিশাচ, যক্ষ, রক্ষ, গ্রহাদির শান্তিকর্ম, বলিদান ইত্যাদি ।
৫) কৌমারভূত্য তন্ত্র – ধাত্রী ও শিশুপালন, দুগ্ধাপ্লতা ।
৬) অগদ তন্ত্র – সর্পদংশনাদির চিকিৎসা ।
৭) রসায়ন তন্ত্র – পরমায়ু, মেধা, বল বর্ধক ও শরীরচর্চা, ব্যায়াম ইত্যাদি ।
৮) বাজীকরণ – শুক্রঘটিত রোগ নিরাময়, শরীর ও মন প্রফুল্ল রাখার প্রণালী ।
পরিশেষে শরীরই ধর্ম সাধনের মূলক্ষেত্র – শরীরম্‌ আদ্যং খলু ধর্মসাধনম্‌ ।

সামবেদ

মহর্ষি জৈমিনী এই বেদের অধ্যাপকতা করেন, তার প্রধান ৭ জন শিষ্যের নামানুসারে ৭টি স্বর – সা, রে, গা, মা, পা, ধা, নি – এর সুর সংযোজন করেন । এই ৭ জন শিষ্য হলেন সারজ, হৃষব, গান্ধার, মধ্যম, পঙ্কজ, ধৈতব ও নিষাদ । এতে সুরের বিভাগানুযায়ী ১০টি ঠাট আছে এবং অসংখ্য রাগ রাগিণীর সংলাপ আছে । এই সামবেদের মাধ্যমে মনের স্তরের বিনোদন করে আত্মোপলব্ধি করতে পারি ।
বিষ্ণুসারথী গরুড়দেব যখন প্রভুকে নিয়ে গগন মার্গে ভ্রমণ করেন তখন তিনি এই সামবেদেরই কীর্তন করেন । নারদ মুনি বীণা সহযোগে কীর্তন করে সর্বত্র ভগবানের মহিমা প্রচার করেন এবং এই কলিযুগের মূল যুগধর্মই হচ্ছে কীর্তনীয়ঃ সদা হরিঃ ।

ঋকবেদ

মহর্ষি পৈল এই বেদের অধ্যাপনা করেন । এই বেদ বিশেষ করে ব্রাহ্মণ ধর্ম, দশবিধ সংস্কার, বর্ণাশ্রম ব্যবস্থা, গায়েত্রী মন্ত্র, ব্রাহ্মণদের কর্তব্য কর্ম, সন্ন্যাসী বিভাগ—কুটিচক, বহূদক, পরিব্রাজক, পরমহংসদের কর্তব্যকর্ম, যোগের প্রণালী (যম নিয়মাদি), দেবতা পূজার্চনাদি, হোম, যজ্ঞ ইত্যাদির মাধ্যমে নিজে ও অপরের কল্যাণসাধন করে ।
ঋকবেদের সিধান্তানুযায়ী কেবল ব্রহ্মণরাই সমস্ত বেদ অধ্যায়ন করবে এবং প্রয়োজনে যার যতটুকু প্রয়োজন তাকে কেবল ততটুকুই দান করবে । তার ফলে বেদের মান অবিকৃতভাবে বজায় থাকবে ।
পরিশেষে বেদের চূড়ান্ত নির্ণয় যা শ্রীল ব্যাসদেব শ্রীমদ্ভাগবতের সূচনায় উল্লেখ করেছেন এবং তা হচ্ছে সত্যং পরং ধীমহি – পরম সত্যের ধ্যান করা । শ্রীচৈতন্য চরিতামৃতে শ্রীল কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী উল্লেখ করেছেন “লোকে কেনে পড়ে-(শুধু) কৃষ্ণ জানিবারে । কৃষ্ণ না জানিল, তবে বিদ্যায় কি করে ।।” আমরা যতই বিদ্যালাভ করি ততই আমাদেরকে ভগবান শ্রীকৃষ্ণের প্রতি অনুরক্ত হওয়ার বিদ্যালাভের সফলতা নির্ণয় করে কেননা গীতায় ভগবান শ্রীকৃষ্ণ বলেছেন – বেদৈশ্চ সর্বৈঃ অহম্‌ এব বেদ্যঃ । (গীতা ১৫/১৫) সমস্ত বেদের মূল বিদ্যা হচ্ছে ভগবান শ্রীকৃষ্ণকে জানা ।
হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে ।
হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে ।।

Saturday, 25 March 2017

আত্মা প্রকৃ্তপক্ষে কি?


 

আত্মা প্রকৃ্তপক্ষে কি?

সমগ্র বিশ্ব এই ভ্রান্ত মোহে কর্মমুখর যে আমরা হচ্ছি এই দেহ। মানুষের সমগ্র কাজকর্মই তাদের জড় শরীরকে ঘিরে আবর্তিত হয়। ভগবান শ্রীকৃষ্ণ গীতায় প্রথম যে বিষয়টি আমাদের শিক্ষা দিয়েছেন, তা হচ্ছে, “আমরা এই দেহ নই, আমরা চিন্ময় আত্মা।” এমনকি সামান্য একটু চিন্তা করলেই আমরা বুঝতে পারব যে আমরা এই দেহ নই।
আত্মা প্রকৃ্তপক্ষে কি?
আত্মা হচ্ছে জীবনী শক্তির এক চিন্ময় স্ফুলিঙ্গ যা প্রত্যেকটি দেহকে ক্রিয়াশীল করে, সেটিকে বিভিন্ন ক্রিয়াকলাপ সম্পাদনে সক্ষম করে, ঠিক যেমন ইলেক্ট্রন কণার স্রোত তামার তারের মধ্যে প্রবাহিত হবার সময় শক্-এর সৃষ্টি করে। দেহকে একটি গাড়ীর সঙ্গে তুলনা করা যেতে পারে, আর আত্মাকে তুলনা করা যায় গাড়ীটির চালকের সংগে। আত্মা সেই জীবনের এক স্ফুলিঙ্গ, যার উপস্থিতির ফলে দেহকে জীবন্ত বলে মনে হয়, আর যখন আত্মা দেহটি ছেড়ে চলে যায়, তখন আমরা বলি যে লোকটি ‘মৃত’।
আত্মার অস্তিত্বের বিজ্ঞানভিত্তিক প্রমাণ

Friday, 17 March 2017

শিবরাত্রী কেন পালন করা হয় এবং এর মাহাত্ম্য








শিবরাত্রী কেন পালন করা হয় এবং এর মাহাত্ম্য


পুরাকালের কথা। কৈলাশশিখরে শিব-পার্বতী বাস

করতেন। গন্ধর্ব, সিন্ধ, চারণ প্রভৃতি তাঁদের সেবা

করত। পরম সুখে ছিলেন শিব-পার্বতী। একদা

পার্বতী শিবকে প্রশ্ন করলেন, ভগবান, আপনি

ধর্ম, অর্থ, কাম ও মোক্ষ-দাতা। আপনি কোন ব্রত

বা তপস্যায় সন্তুষ্ট হন?

দেবী পার্বতীর কথা শুনে শিব বললেন,

দেবী, ফাল্গুন মাসের কৃষ্ণপক্ষের চতুর্দশী

তিথীর রাত্রিকে শিবরাত্রি বলা হয়। এ রাত্রিতে

উপবাস করলে আমি অত্যন্ত সন্তুষ্ট হই। স্নান,

বস্ত্র, ধূপ, পুষ্প ও অর্চনায় আমি যতটুকু সন্তুষ্ট হই

তার চেয়ে বেশি সন্তুষ্ট হই শিবরাত্রির উপবাসে।

তিনি আরও বলেন, ব্রতপালনকারী

ত্রয়োদশীতে স্নান করে সংযম পালন করবে।

স্বপক্ব নিরামিষ বা হবিষ্যান্ন ভোজন করবে।

স্থণ্ডিল ( ভূমি বা বালু বিছানো যজ্ঞবেদী) অথবা

কুশ বিছিয়ে শয়ন করে আমার (অর্থাৎ শিবের) নাম

স্মরণ করতে থাকবে। রাত্রি শেষ হলে শয্যা ত্যাগ

করে প্রাতঃ ক্রিয়াদি করবে অন্যান্য আবশ্যক কার্যাদি

করবে। সন্ধ্যায় যথাবিধি পূজাদি করে বিল্বপত্র সংগ্রহ

করবে। তারপর নিত্যক্রিয়াদি করবে। অতঃপর

স্থণ্ডিলে (যজ্ঞবেদীতে), সরোবরে,

প্রতীকে বা প্রতিমায় বিল্বপত্র দিয়ে আমার পূজা

করবে। একটি বিল্বপত্র দ্বারা পূজা করলে আমার

যে প্রীতি জন্মে, সকল প্রকার পুষ্প একত্র

করে কিংবা মণি, মুক্তা, প্রবাল বা স্বর্ণনির্মিত পুষ্প

দিয়ে আমার পূজা করলেও, আমার তার সমান প্রীতি

জন্মে না।

প্রহরে প্রহরে বিশেষভাবে স্নান করিয়ে আমার

পূজা করবে। পুষ্প, গন্ধ, ধূপাদি দ্বার যথোচিত অর্চনা

করবে। প্রথম প্রহরে দুগ্ধ, দ্বিতীয় প্রহরে

দধি, তৃতীয় প্রহরে ঘৃত এবং চতুর্থ প্রহরে মধু

দিয়ে আমাকে স্নান করাবে এবং পূজা করবে। এছাড়া


যথাশক্তি নৃত্যগীতাদি দ্বারা আমার প্রীতি সম্পাদন

করবে।

হে দেবী, এই হল আমার প্রীতিকর ব্রত। এ

ব্রত করলে অপস্যা ও যজ্ঞের পুণ্য লাভ হয় এবং

ষোল কলায় দক্ষতা জন্মে। এ ব্রতের প্রভাবে

সিদ্ধি লাভ হয়। অভিলাষী ব্যক্তি সপ্তদীপা পৃথিবীর

অধীশ্বর হয়।

শিব পার্বতীকে আরও বলেন, এবার শিবচতুদর্শী

তিথির মাহাত্ম বলছি, শোন।

একদা সর্বগুণযুক্ত বারাণসী পুরীতে ভয়ঙ্কর এক

ব্যাধ বাস করত। বেঁটে-খাটো ছিল তার চেহারা, আর

তার গায়ের রং ছিল কালো। চোখ আর চুলের রং

ছিল কটা। নিষ্ঠুর ছিল তার আচরণ। ফাঁদ জাল, দড়ির ফাঁস

এবং প্রাণী হত্যার নানা রকম হাতিয়ারে পরিপূর্ণ ছিল তার

বাড়ি।

একদিন সে বনে গিয়ে অনেক পশু হত্যা করল।

তারপর নিহত পশুদের মাংসভার নিয়ে নিজের বাড়ির

দিকে রওনা হল। পথে শ্রান্ত হয়ে সে বনের

মধ্যে বিশ্রামের জন্য একটি বৃক্ষমূলে শয়ন

করলে এবং একটু পরেই নিদ্রিত হল।

সূর্য অস্ত গেল। এল ভয়ঙ্কর রাত্রি। ব্যাধ জেগে

উঠল। ঘোর অন্ধকারে কোন কিছুই কারও

দৃষ্টিগোচর হল না। অন্ধকারে হাতড়ে হাতড়ে সে

একটি শ্রীফলবৃক্ষ অর্থাৎ বিল্ববৃক্ষ পেল। সেই

বিল্ববৃক্ষে সে লতা দিয়ে তার মাংসভার বেঁধে

রাখল। বৃক্ষতলে হিংস্র জন্তুর ভয় আছে। এই

ভেবে সে নিজেও ঐ বিল্ববৃক্ষে উঠে পড়ল।

শীতে ও ক্ষুধায় তার শরীর কাপঁতে লাগল।

এভাবে সে শিশিরে ভিজেই জেগে কাটাল সারা

রাত।

দৈববশত সেই বিল্ববৃক্ষমূলে ছিল আমার (অর্থাৎ

শিবের) এতটি প্রতীক। তিথিটি ছিল শিবচতুর্দশী।

আর ব্যাধও সেই রাত্রি কাটিয়েছিল উপবাসে। তার

শরীর থেকে আমার প্রতীকের ওপর হিম বা

শিশির ঝরে পড়েছিল। তার শরীরের ঝাঁকুনিতে

বিল্বপত্র পড়েছিল আমার প্রতীকের ওপর।

এভাবে উপবাসে বিল্বপত্র প্রদানে এবং শিশিরস্নানে

নিজের অজান্তেই ব্যাধ শিবরাত্রিব্রত করে

ফেলল।

দেবী, তিথিমাহাত্মে কেবল বিল্বপত্রে আমার

যে প্রীতি হয়েছিল, স্নান, পূজা বা নৈবেদ্যদি

দিয়েও সে প্রীতি সম্পাদন সম্ভব নয়। তিথি

মাহাত্মে ব্যাধ মহাপূণ্য লাভ করেছিল। পরদিন উজ্জল

প্রভাতে ব্যাধ নিজের বাড়িতে চলে গেল।

কালক্রমে ব্যাধের আয়ু শেষ হল। যমদূত তার

আত্মাকে নিতে এসে তাকে যথারীতি যমপাশে

বেঁধে ফেলতে উদ্যত হল। অন্যদিকে আমার

প্রেরিত দূত ব্যাধকে শিবলোকে নিয়ে এল। আর

আমার দূতের দ্বারা আহত হয়ে যমদূত যমরাজকে

নিয়ে আমার পুরদ্বারে উপস্থিত হল। দ্বারে শিবের

অনুচর নন্দীকে দেখে যম তাকে সব ঘটনা

বললেন।

এই ব্যাধ সারা জীবন ধরে কুকর্ম করেছে।

জানালেন যম।

তার কথা শুনে নন্দী বললেন,

ধর্মরাজ, এতে কোন সন্দেহই নেই যে ঐ ব্যাধ

দুরাত্মা। সে সারা জীবন অবশ্যই পাপ করেছে।

কিন্তু শিবরাত্রি ব্রতের মাহাত্মে সে পাপমুক্ত

হয়েছে এবং সর্বেশ্বর শিবের কৃপা লাভ করে

শিবলোকে এসেছে।

নন্দীর কথা শুনে বিস্মিত হলেন ধর্মরাজ। তিনি

শিবের মাহাত্মর কথা ভাবতে ভাবতে যমপুরীতে

চলে গেল।

শিব পার্বতীকে আরও বলেলেন, এই হল

শিবরাত্রিব্রতের মাহাত্ম।

শিবের কথা শুনে শিবজায়া হিমালয় কন্যা পার্বতী

বিস্মিত হলেন। তিথি শিবরাত্রিব্রতের মাহাত্ম্য

নিকটজনের কাছে বর্ণনা করলেন। তাঁরা আবার তা

ভক্তি ভরে জানালেন পৃথিবীর বিভিন্ন রাজাকে। এ

ভাবে শিবরাত্রিব্রত পৃথিবীতে প্রচলিত হল।


(তথ্যসূত্র: শিব পুরান )

Wednesday, 15 March 2017

ॐॐ শ্রীকৃষ্ণের অষ্টোত্তর শতনাম ॐॐ









ॐॐ শ্রীকৃষ্ণের অষ্টোত্তর শতনাম ॐॐ

____________________________

জয় জয় গোবিন্দ গোপাল গদাধর।

কৃষ্ণচন্দ্র কর দয়া করুণাসাগর।।

জয় রাধে গোবিন্দু গোপাল বনমালী।

শ্রীরাধার প্রাণধন মুকন্দ মুরারি।।

হরিনাম বিনে রে গোবিন্দু নাম বিনে।

বিফলে মনুষ্য জন্ম যায় দিনে দিনে।।

দিন গেল মিছে কাজে রাত্রি গেল নিদ্রে।

না ভজিনু রাধাকৃষ্ণ চরণার বিন্দে।।

কৃষ্ণ ভজিবার তরে সংসারে আইনু।

মিছে মায়ায় বদ্ধ হ’য়ে বৃক্ষসম হৈনু।।

ফলরূপে পুত্র কন্যা ডাল ভাঙ্গি পড়ে।

কালরূপে সংসারেতে পক্ষী বাসা করে।।

যখন কৃষ্ণ জন্ম নিল দৈবকী উদরে।

মথুরাতে দেবগণ পুষ্পবৃষ্টি করে।।

বসুদেব রাখি এলো নন্দের মন্দিরে।

নন্দের আলয়ে কৃষ্ণ দিনে দিনে বাড়ে।।

শ্রীনন্দ রাখিল নাম নন্দের নন্দন।১
                                                              

Sunday, 13 September 2015

ভগবদ্গীতা


ভগবদ্গীতা (সংস্কৃত: भगवद्गीता, ভগবানের গান) বা গীতা একটি ৭০০-শ্লোকের হিন্দু ধর্মগ্রন্থ। এটি প্রাচীন সংস্কৃত মহাকাব্য মহাভারত-এর একটি অংশ। যদিও গীতা একটি স্বতন্ত্র ধর্মগ্রন্থ তথা একটি পৃথক উপনিষদের মর্যাদা পেয়ে থাকে। হিন্দুরা গীতা-কে ভগবানের মুখনিঃসৃত বাণী মনে করেন। হিন্দুধর্ম, দর্শন ও সাহিত্যের ইতিহাসে গীতা এক বিশেষ স্থানের অধিকারী। গীতা-র কথক কৃষ্ণ হিন্দুদের দৃষ্টিতে ঈশ্বরের অবতার পরমাত্মা স্বয়ং। তাই গীতা-য় তাঁকে বলা হয়েছে "শ্রীভগবান"।

গীতা-র বিষয়বস্তু কৃষ্ণ ও পাণ্ডব রাজকুমার অর্জুনের কথোপকথন। কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধ শুরু ঠিক আগে শত্রুপক্ষে আত্মীয়, বন্ধু ও গুরুকে দেখে অর্জুন কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে পড়েছিলেন। এই সময় কৃষ্ণ তাঁকে ক্ষত্রিয় যোদ্ধার ধর্ম স্মরণ করিয়ে দিয়ে এবং বিভিন্ন প্রকার যোগশাস্ত্র[৩] ও বৈদান্তিক দর্শন ব্যাখ্যা করে তাঁকে যুদ্ধে যেতে উৎসাহিত করেন। তাই গীতা-কে বলা হয় হিন্দু ধর্মতত্ত্বের একটি সংক্ষিপ্ত পাঠ এবং হিন্দুদের জীবনচর্যার একটি ব্যবহারিক পথনির্দেশিকা। যোগশাস্ত্র ব্যাখ্যার সময় কৃষ্ণ নিজের "স্বয়ং ভগবান" রূপটি উন্মোচিত করেন এবং বিশ্বরূপে অর্জুনকে দর্শন দিয়ে আশীর্বাদ করেন।

অর্জুন ছাড়া প্রত্যক্ষভাবে কৃষ্ণের মুখ থেকে গীতা শুনেছিলেন সঞ্জয় (তিনি যুদ্ধের ঘটনা ধৃতরাষ্ট্রের কাছে বর্ণনা করার জন্য বেদব্যাসের কাছ থেকে দিব্য দৃষ্টি লাভ করেছিলেন),হনুমান (তিনি অর্জুনের রথের চূড়ায় বসে ছিলেন) ও ঘটোৎকচের পুত্র বর্বরিক (তিনি কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধের সব ঘটনা দেখেছিলেন)।
গীতা-কে গীতোপনিষদ বলা হয়। অর্থাৎ, গীতা উপনিষদ্‌ বা বৈদান্তিক সাহিত্যের অন্তর্গত।

"উপনিষদ্‌" নামধারী ধর্মগ্রন্থগুলি শ্রুতিশাস্ত্রের অন্তর্গত হলেও, মহাভারত-এর অংশ বলে গীতা স্মৃতিশাস্ত্রের অন্তর্গত। আবার উপনিষদের শিক্ষার সারবস্তু গীতা-য় সংকলিত হয়েছে বলে একে বলা হয় "উপনিষদ্‌সমূহের উপনিষদ্‌"। গীতা-কে মোক্ষশাস্ত্র নামেও অভিহিত করা হয়। ভারতীয় মণীষীদের পাশাপাশি অ্যালডাস হাক্সলি, অ্যালবার্ট আইনস্টাইন, জে. রবার্ট ওপেনহাইমার, রালফ ওয়াল্ডো এমারসন, কার্ল জাং, হেনরিক হিমার ও হারমান হেস প্রমুখ পাশ্চাত্য মণীষীরাও গীতা-র উচ্চ প্রশংসা করেছেন।

ভক্তি


ভক্তি

ভক্তি (সংস্কৃত: भक्ति) হিন্দুধর্মে উপাসনার একটি বিশেষ রীতি। পূজনীয় দেবতা বা ব্যক্তির প্রতি বিশেষ অনুরাগ বা প্রেমকেই ভক্তি বলা হয়। ঈশ্বরের নিকট সম্পূর্ণ আত্মসমর্পণের নামই ভক্তি। ভক্তির পথে যিনি ঈশ্বরোপাসনা করেন, তাঁকে ভক্ত নামে এবং ভক্তিবাদী দর্শনকে ভক্তিমার্গ নামে অভিহিত করা হয়। ভক্তিবাদ হিন্দুধর্মের একাধিক শাখাসম্প্রদায়ের মূলভিত্তি। বিভিন্ন সম্প্রদায় ভিন্ন ভিন্ন ভাবে ভক্তিবাদের ব্যাখ্যা প্রদান করে থাকে।

ভক্তিবাদ ঈশ্বরপ্রেমকে প্রথা ও আচার-অনুষ্ঠানের ঊর্ধ্বে স্থান দেয়। ঈশ্বর ও মানুষের মধ্যে প্রেমিক-প্রেমিকা, বন্ধু, পিতামাতা-সন্তান, ও প্রভু-ভৃত্য ইত্যাদি মানবিক সম্পর্ক ভক্তিবাদের প্রধান স্তম্ভ। ঈশ্বরের কোনো নির্দিষ্ট রূপ, ঈশ্বরের নিরাকার রূপ, বা গুরুর প্রতি ভক্তি (গুরুভক্তি) ভক্তিবাদের অঙ্গ। হিন্দুধর্মে সম্প্রদায়ভেদে ভক্তিবাদের নির্দিষ্ট রূপ প্রচলিত: শৈবেরা শিব ও শিব-সম্পর্কিত দেবদেবীগণের ভক্ত; বৈষ্ণবেরা বিষ্ণু ও তাঁরঅবতারগণের ভক্ত এবং শাক্তেরা মহাশক্তির বিভিন্ন রূপের ভক্ত। তবে কোনো নির্দিষ্ট দেবতার প্রতি ভক্তি থাকলে অন্য কোনো দেবতাকে পূজা করা যাবে না – এমন কোনো বিধান হিন্দুধর্মে নেই।

ভগবদ্গীতা প্রথম ধর্মগ্রন্থ যেখানে "ভক্তি" শব্দটিকে প্রথম ধর্মীয় পথ অর্থে উল্লেখ করা হয়। এর বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেওয়া হয় ভাগবত পুরাণে। ভক্তি আন্দোলনের কালে দক্ষিণ ভারত থেকে ভক্তিবাদের উত্থান ঘটে। এই ভক্তিবাদের প্রবক্তারা ছিলেন বৈষ্ণব অলবর (খ্রিষ্টীয় ষষ্ঠ থেকে নবম শতাব্দী) ও শৈব নায়নার (খ্রিষ্টীয় পঞ্চম থেকে দশম শতাব্দী) সম্প্রদায়ভুক্ত। ভক্তিবাদ ও ভক্তিবাদী সাহিত্য সমগ্র ভারতে ছড়িয়ে দেওয়ার পিছনে এঁরাই ছিলেন প্রধান অনুপ্রেরণা। খ্রিষ্টীয় দ্বাদশ থেকে অষ্টাদশ শতাব্দীর মধ্যবর্তী সময়ে ভক্তি আন্দোলন সমগ্র ভারতেই বিস্তার লাভ করেছিল। ভারতে ভক্তিবাদের প্রভাব অন্যান্য ধর্মগুলির মধ্যেও ছড়িয়ে পড়ে। বর্তমানে ভক্তিবাদ ভারতীয় সমাজের একটি অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ। ধর্মীয় থেকে ধর্মনিরপেক্ষ – অনেক বিষয়েই আজ ভক্তিবাদের ছায়া সুস্পষ্ট।

তুলসী গাছ কেন সনাতনধর্মাবলম্বীদের কাছে এত পবিত্র ? হিন্দু বাড়িতে তুলসী গাছ থাকে কেন ?


তুলসী গাছ কেন সনাতনধর্মাবলম্বীদের কাছে এত পবিত্র ? হিন্দু বাড়িতে তুলসী গাছ থাকে কেন ?

তুলসী (Tulsi/Holy Basil/ thai Krapho) একটি Lamiaceae family এর অন্তর্গত সুগন্ধি বীরুত্ জাতীয় উদ্ভিদ যার বৈজ্ঞানিক নাম Ocimum sanctum (sanctum অর্থ পবিত্র স্থান) । হাজার হাজার বছর ধরে সাধারণত কৃষ্ণ ও রাধা তুলসী এই দুই প্রকারে প্রাপ্ত তুলসী হিন্দু গৃহে পবিত্রতার প্রতীক হিসেবে পূজিত হয়ে আসছে যেহেতু এর পিছনে রয়েছে ধর্মীয় ,পরিবেশগত ও বৈজ্ঞানিক কারণ ।

ধর্মীয় কারণ :ব্রহ্মবৈবর্তপুরাণে তুলসীকে সীতাস্বরূপা ,স্কন্দপুরাণে লক্ষীস্বরূপা,চর্কসংহিতায় বিষ্ণুর ন্যায় ভুমি,পরিবেশ ও আমাদের রক্ষাকারী বলে বিষ্ণুপ্রিয়া ,ঋকবেদে কল্যাণী বলা হয়েছে । স্বয়ং ভগবান বিষ্ণু তুলসী দেবীকে পবিত্রা বৃন্দা বলে আখ্যায়িত করে এর সেবা করতে বলেছেন।

পরিবেশগত কারণ : পরীক্ষা করে দেখা গেছে যে তুলসীগাছ একমাত্র উদ্ভিদ যা দিন রাত চব্বিশ ঘণ্টা অক্সিজেন সরবরাহ করে বায়ু বিশুদ্ধ রাখে যেখানে অন্য যেকোন গাছ রাত্রিতে কার্বন ডাই অক্সাইড ত্যাগ করে তাই রাতের বেলাতে তুলসীতলায় শয়ন করাও ব্যক্তির জন্য উপকারী।এছাড়া তুলসীগাছ ভুমি ক্ষয় রোধক এবং তুলসী গাছ লাগালে তা মশা কীটপতঙ্গ ও সাপ থেকে দূরে রাখে।

বৈজ্ঞানিক ও স্বাস্থ্যগত কারণ:

*তুলসীতেEugenolঅধিক পরিমাণে থাকায় তা Cox-2 Inhibitorরূপে কাজ করে বলে তা ব্যথানাশক হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
*Hypoglycemic drugs এর সাথে তুলসী খেলে তা টাইপ ২ ডায়াবেটিস রোগে দ্রুত গ্লুকোজের মাত্রা কমিয়ে দেয়।
*তেজস্ক্রিয়তার ফেলে ক্ষতিগ্রস্থ কোষসমুহকে মেরামত করে।
*চর্বিজনিত হৃদরোগে এন্টি অক্সিডেন্টের ভুমিকা পালন করে।
*তুলসী একশেরও বেশি Phytochemicals(যেমন oleanolic acid ,beta caryophyllene ইত্যাদি)বহন করে বলে ক্যান্সার চিকিত্সায় ব্যবহৃত হয়।
*তুলসীর অ্যালকোহলিক নির্যাস Immune system এর রোগ প্রতিরোধ করার ক্ষমতাকে বৃদ্ধি করে।
*তুলসী স্নায়ুটনিক ও স্মৃতিবর্ধক।
*শ্বসনতন্ত্রের বিভিন্নরোগ যেমন ব্রঙ্কাইটিস, ইনফ্লুয়েঞ্জা ,হাঁপানি প্রভৃতি রোগের নিরাময়ক।
*সর্দি ,কাশি, জ্বর, বমি, ডায়ারিয়া ,কলেরা ,কিডনির পাথর ,মুখের আলসারসহ চোখের বিভিন্ন রোগে ইহা ওষুধ হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
*দাঁতের রোগের উপশমকারী বলে টুথপেস্ট তৈরিতে ব্যবহার করা হয়।

সনাতন ধর্মে নারীর অধিকার




একটা সময় ধর্মব্যবসায়ীরা নারীদের অধিকার হরন করে পুরুষ আধিপত্য প্রতিষ্ঠার জন্য নারীদের ধর্মগ্রন্থ পাঠ বন্ধ করা বন্ধ করে দেয়।অথচ পবিত্র বেদ ধর্মগ্রন্থ পাঠে সকলের সমান অধিকার দেয়।

যথেমাং বাচং কল্যানীমবদানি জনেভ্যঃ।
ব্রহ্ম রাজন্যাভ্যাং শুদ্রায়
...
চার্য্যায় চ স্বীয় চারণায়।।
...

যজুর্বেদ ২৬/২

অনুবাদ-"আমি যেমন সকল মানুষের জন্য কল্যানময় এবং মুক্তি প্রদায়িনী বেদ উপদেশ করিয়াছি ঠিক তেমনি তোমরাও ব্রাহ্মন,ক্ষত্রিয়,বৈশ্য,শুদ্র,নারী-পুরুষ নির্বিশেষে তা কর।

পবিত্র বেদ নারীদেরকেও উপনয়ন করতে বলেছে এবং যজ্ঞ করার অধিকার দিয়েছে। অথচ আজকাল ধর্মব্যবসায়ী গুরু-পান্ডারা তা শুধু ব্রাহ্মন এবং পুরুষদের একচেটিয়া অধিকার করে নিতে চাইছে।

ওঁ শুদ্ধ পুত যোসিত যজ্ঞিয়াইমা ব্রাহ্মনম হস্তেষু প্রপ্রতক সদায়মি।
যত্কাদমা ইদমাভিসিন্চমি বোহামিন্দ্রো মরুত্বন্স দদাতু তন্বে।। ওঁ

অথর্ববেদ ৬.১২২.৫

অনুবাদ-আমার সকল কন্যাগন পবিত্র,ধর্মনিষ্ঠ,সকল ধর্মানুষ্ঠান(যজ্ঞাদি) পালনে যোগ্য।তাঁরা সকলে পবিত্র বেদ মন্ত্র নিষ্ঠার সহিত পাঠ করবে।তাঁদের সকলে বিদ্বান গুরুর নিকট বিদ্যালাভ করবে।ঈশ্বর তাদের নৈবেদ্য গ্রহন করবেন।

অথর্ববেদ এর ব্রহ্মচর্য সুক্তে বলা হয়েছে-

ব্রহ্মচর্যেন কন্যা যুবানং বিন্দুতে পতিম্।

অথর্ববেদ ১১.৫.১৮

অর্থাত্ কন্যারাও ব্রহ্মচর্য সেবন দ্বারা পূর্ন বিদ্যা এবং সুশিক্ষা প্রাপ্ত হয়ে প্রাপ্তবয়স্ক হলে নিজ পছন্দের বিদ্বান পতি গ্রহন করিবে।

শ্রৌতসুত্রে বলা হয়েছে-
"ইমং মন্ত্রং পত্নী পঠেত্"
অর্থাত্ স্ত্রী যজ্ঞে মন্ত্রপাঠ করিবে। যদি বেদাদি শাস্ত্র না পাঠ করে তবে যজ্ঞে স্বরসহিত মন্ত্রোচ্চারন কি করে করবে।

অথর্ববেদ ১২.২.৩১ বলেছে নারীরা যেন সবসময় সম্মানিত এবং দুঃখবিহীন অবস্থা পায়।

অথর্ববেদ ১২.৩.৫২ নারীদেরকে আইন-বিধান প্রনয়নে অংশ নিতে বলেছে

ঋগবেদ ৩.৩১.১ পৈতৃক সম্পত্তিতে নারী ও পুরুষের সমান অধিকার ঘোষনা দিয়েছে। [Book-Mera Dharm by priyavrata vedavachaspati,chap 1,page 21]

যজুর্বেদ ২০.৯ নারীকে রাজ্য শাসন করার যোগ্য ঘোষনা করেছে।

যজুর্বেদ ১৬.৪৪ নারী সেনানী এবং যুদ্ধে নারীর অংশগ্রহনের অনুমতি দিয়েছে।

বেদদ্রষ্টা ঋষিদের মধ্যে ২৭ জন নারী ঋষি রয়েছেন যে দৃষ্টান্ত পৃথিবীর অন্য কোন ধর্মেই নেই।

সুতরাং নারীদের প্রতি যে কোন ধরনের বৈষম্যমুলক আচরন ই বেদ পরিপন্থী।বেদবানী পালনের মাধ্যমে একটি সুন্দর পৃথিবী গড়ে তোলার প্রত্যয় গ্রহন করুন সকলে।

বৈবাহিক জীবন,স্বামী ও স্ত্রী,কে বড় আর কে ছোট?



বৈবাহিক জীবন,স্বামী ও স্ত্রী,কে বড় আর কে ছোট?
পৃথিবীতে প্রায় সকল প্রচলিত ধর্মমতে নারীকে পুরুষের তুলনায় ছোট,নিচু করে দেখা হয়।নারী বা স্ত্রী অসহায়,অক্ষম আর পুরুষ বা স্বামী তার রক্ষক,তার দেবতা।পৌরানিক ও আব্রাহামিক উভয়ক্ষেত্রেই এই অবস্থা!আব্রাহামিক ধর্মগুলোর ধর্মগ্রন্থে তো সরাসরি স্ত্রীকে মারধোর করার অধিকারও দেয়া হয়েছে!কয়েকদিন আগেও শরীয়া আইন অনুসারে আফগানিস্তানে স্বামী কর্তৃক স্ত্রীদের প্রহার করার আইনত বৈধতা দেয়া হয়েছে!এছাড়া পাকিস্তান সহ শরীয়া আইনযুক্ত দেশসমূহতে সাক্ষ্যদান সহ সকল কাজে দুইজন নারীকে একজন পুরুষের সমতূল্য ধরা হয় কেননা শরীয়া আইন মোতাবেক একজন নারীর যোগ্যতা ও বুদ্ধিমতা নাকি একজন পুরুষের অর্ধেক!
আজ আমরা দেখবো সত্য ও শুদ্ধ জ্ঞান পবিত্র বেদ এ বিষয়ে কি বলেছে।
নহি ষস্তব নো মম শাস্ত্রে অন্যস্য রণ্যতি।
যো অস্মান্বীর আনযত।।
অর্থাত্ যে সর্বশক্তিমানের শাস্ত্র অনুযায়ী(বেদ) আমরা আজ এই অবস্থায়(নারী ও পুরুষ) তা কখনো নারীর উপর পুরুষের বা পুরুষের উপর নারীর আধিপত্যের দাবীকে সম্মতি দেয়না।
ইন্দ্রশ্চিদ ঘা তদব্রভীত স্ত্রীয়া অশাস্যং মনঃ।
উতো অহ ক্রতুঃ রঘুম।।
অর্থাত্,ঈশ্বরের এই আজ্ঞা যে, যদি স্বামী মনে করে নারীদের মন অনিয়ন্ত্রিত এবং তাদের চিন্তা ও জ্ঞানবুদ্ধি পুরুষের তুলনায় নিম্নতর তাহলে তা মিথ্যা বিনা কিছুই নয়।
সপ্তী চিদ্ঘা মদচ্যুতা মিথুনা বহতো রথম্।
এবেদ্দূর্বষ্ণা উত্তরা।।
অর্থাত্ দুইদিকে দুই তেজী অশ্ব যেমন রথকে সঠিকভাবে দ্রুতগামী করে ঠিক তেমনি স্বামী ও স্ত্রীর সমতা ই সংসারের রথকে পরিপূর্নভাবে বহন করতে পারে।
(ঋগ্বেদ এর ৮ম মন্ডলের ১৬,১৭ এবং ১৮ নং মন্ত্র)
পবিত্র বেদের সাম্য ও মানবতার বানী ছড়িয়ে দিন সকলের মাঝে।
ওঁ শান্তি শান্তি শান্তি

স্মৃতি শাস্ত্রের বিখ্যাত গ্রন্থ মনুসংহিতায় আট প্রকার বিবাহের কথা বলা আছে।


"বিবাহ" শব্দটি বি-পূর্বক বহ্ ধাতু ও ঘঞ্ প্রত্যয়যোগে গঠিত। বহ্ধাতুর অর্থ বহন করা এবং "বি" উপসর্গের অর্থ বিশেষরুপে।সুতরাং বিবাহ শব্দের অর্থ বিষেশ রুপে বহন করা। বিবাহের ফলে পুরুষ স্ত্রীর ভরণ-পোষণ এবং মানসম্ভ্রমরক্ষার সার্বিক ভার বহন করতে হয়।

স্মৃতি শাস্ত্রের বিখ্যাত গ্রন্থ মনুসংহিতায় আট প্রকার বিবাহের কথা বলা আছে। 

সেগুলো হল:-

(১) ব্রাহ্ম
(২) আর্য
(৩) প্রাজাপত্য
(৪) আসুর
(৫) গান্ধর্ব
(৬) রাক্ষস
(৭) দৈব
(৮) পৈশাচ

জাতি এবং শ্রেণী বিভাগে এই বিবাহ গুলো হয়ে থাকে তবে ব্রাহ্ম, দৈব, আর্য, প্রাজাপত্য বিবাহ রীতি গুলোই প্রচলিত।

বর্তমান মানব সমাজে ব্রাহ্ম বিবাহই স্বীকৃত এবং পালনীয়।
ব্রাহ্ম বিবাহ হল - কন্যাকে বস্ত্র দ্বারা আচ্ছাদন করে এবং অলংকার দ্বারা আচ্ছাদন করে বিদ্বান ও সদাচারী বরকে স্বয়ং আমন্ত্রন করে যে কন্যা দান করা হয়তাকে ব্রাহ্মবিবাহ।

বর্তমানে কেউ না মানলেও সমাজে গান্ধর্ব বিবাহের প্রচলন আছে। নারী-পুরুষ পরস্পর শপথ করে মাল্যবিনিময়ের মাধ্যমে যে বিবাহ করে তার নাম গান্ধর্ব বিবাহ। এর উদাহরণ, মহাভারতে দুষ্মন্ত ও শকুন্তলার বিবাহ গাদ্ধর্ব বিবাহ ছিল।

বেদে খুব পরিষ্কার ভাবে বলা হয়েছেঃ
উদীর্স্বাতো বিশ্বাবাসো নমসেলামহে ত্বা ।
অন্যামিচ্ছ প্রফর্ব্যং সং জায়াং পত্যা সৃজ ।।১০/৮৫/২২।।
---অর্থাত্ তুমি যাও ও অবিবাহিত নারীকে তোমার অর্ধাঙ্গিণী কর এবং তাকে সমান অধিকার প্রদান কর।

আমাদের সনাতন বিবাহে কত গুলো বিধিবিধান শাস্ত্রীয়, কিছু অনুষ্ঠান আচার রয়েছে। শুভলগ্নে নারায়ণ, অগ্নি, শিব, দূর্গা, গুরু ইত্যাদি দেবতাকে আহবান করে এবং পুরোহিত আত্মীয় স্বজনদের সাক্ষী করে মঙ্গল মন্ত্রের উচ্চারণ, উলুধ্বনি ও শঙ্খধ্বনির মাধ্যমে বিবাহনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়। বিয়ের মন্ত্রের শেষ হয় যজ্ঞের মাধ্যমে।

বিবাহের মূল মন্ত্র যা স্বামী স্ত্রীরা প্রতিজ্ঞা করে থাকে :
"যদেতত্ হৃদয়ং তব তদস্তু হৃদয়ং মম ।
যদিদং হৃদয়ং মম, তদস্তু হৃদয়ং তব ।।"
—তোমার এই হৃদয় আমার হোক আমার এইহৃদয় তোমার হোক।

বিবাহের মাধ্যমে একজন নারীপুরুষ চীর জীবন একসাথে সুখে দুঃখে থাকবার প্রতিজ্ঞা করে। বিবাহ আমাদের সনাতন ধমেঃর একটি অন্যতম অংশ। প্রত্যেকেরই জীবনকে পরিপূর্ণ করতে বিবাহ করা আবশ্যক।
"সত্যমেব জয়তে''

বেদে গোহত্যা এবং গোমাংস খাওয়া সম্পূর্ণ ভাবে নিষিদ্ধ।

বেদ হিন্দুদের আদি ধর্ম গ্রন্থ । বেদে গোহত্যা এবং গোমাংস খাওয়া সম্পূর্ণ ভাবে নিষিদ্ধ। এটা হিন্দু সমাজ মেনে চলে কঠোর ভাবে।

কিন্তু কিছুদিন ধরে ইন্টারনেট ফোরাম গুলো তে হিন্দুদের বিরুদ্ধে প্রপোগান্ডা চলছে। এরা চায় ১০০ কোটি হিন্দু নিজের বিশ্বাস ত্যাগ করে তাদের ধর্মে ধর্মান্তরিত হোক যেটা তাদের মতে সর্বশেষ পথ । বেশির ভাগ হিন্দুই নিজের ধর্ম সম্পর্কে জ্ঞানী নয় তাই তারা এই শিকারীদের সহজ শিকারে পরিনত হচ্ছে । দেখা যাক বেদ গোহত্যা নিয়ে কি বলে?

১. Ghrtam duhaanaamaditim janaayaagne maa himsiheeh
Yajurveda 13.49

Do not kill cows and bulls who always deserve to be protected.

২. Aare gohaa nrhaa vadho vo astu

Rigveda 7.56.১৭

ঋগবেদে গোহত্যা কে মানুষ হত্যার সমকক্ষ বলা হয়েছে ও এর সাথে জড়িতদের শাস্তি দিতে বলা হয়েছে ।

৩. Sooyavasaad bhagavatee hi bhooyaa atho vayam bhagvantah syaama

Addhi trnamaghnye vishwadaaneem piba shuddhamudakamaacharantee

Rigveda 1.164.40 or Atharv 7.73.11 or Atharv 9.10.২০

The Aghnya cows – which are not to be killed under any circumstances– may keep themselves healthy by use of pure water and green grass, so that we may be endowed with virtues, knowledge and wealth.

বেদে আঘ্ন্যা . অহি , ও অদিতি হচ্ছে গরুর সমপদ।

আঘ্ন্যা মানে যাকে হত্যা করা উচিত নয় ।

অহি মানে যার গলা কাটা / জবাই করা উচিত নয় ।

অদিতি মানে যাকে টুকরো টুকরো করা উচিত নয় ।

(Source: Yaska the commentator on Nighantu )

৪. Aghnyeyam saa vardhataam mahate soubhagaaya

Rigveda 1.164.27

আঘ্ন্যা গরু আমাদের সুসাস্থ্য ও উন্নতি আনে ।

৫. Suprapaanam Bhavatvaghnyaayaah

Rigveda 5.83.৮

আঘ্ন্যা গরুর জন্য সুপেয় জলের উন্নত ব্যবস্থা থাকা উচিত ।

৬. Yah paurusheyena kravishaa samankte yo ashwena pashunaa yaatudhaanah

Yo aghnyaayaa bharati ksheeramagne teshaam sheershaani harasaapi vrishcha

Rigveda 10.87.16

Those who feed on human, horse or animal flesh and those who destroy milk-giving Aghnya cows should be severely punished.

এখানে মানুষ,ঘোড়া ও গোমাংস আহারকারিদের শাস্তির কথা বলা আছে ।

৭. Vimucchyadhvamaghnyaa devayaanaa aganma

Yajurveda 12.73

The Aghnya cows and bulls bring you prosperity.

৮. Maa gaamanaagaamaditim vadhishta

Rigveda 8.101.15

Do not kill the cow. Cow is innocent and aditi – that ought not to be cut into pieces .

৯. Antakaaya goghaatam

Yajurveda 30.18

Destroy those who kill cows .

১০. Yadi no gaam hansi yadyashwam yadi poorusham

Tam tvaa seesena vidhyaamo yatha no so aveeraha

Atharvaveda 1.16.4

If someone destroys our cows, horses or people, kill him with a bullet of lead.

১১. Vatsam jaatamivaaghnyaa

Atharvaveda 3.30.1

Love each other as the Aghnya – non-killable cow – loves its calf.

কিছু কি আর বলা লাগবে বেদ গো হত্যার পক্ষে নাকি বিপক্ষে ?

১২. Dhenu sadanam rayeenaam

Atharvaveda 11.1.34

Cow is fountainhead of all bounties .

ঋগ্বেদের ৬ মন্ডলের ২৮ সুক্ত গরুর প্রশংসা করেছে।

Aa gaavo agnamannuta bhadramakrantseedantu

Bhooyobhooyo rayimidasya vardhayannabhinne

Na taa nashanti na dabhaati taskaro naasaamamitro vyathiraa dadharshati

Na taa arvaa renukakaato ashnute na samskritramupa yanti taa abhi

Gaavo bhago gaava indro me achhaan

Yooyam gaavo medayathaa

Maa vah stena eeshata maaghanshasah

1. Everyone should ensure that cows are free from miseries and kept healthy.

2. God blesses those who take care of cows.

3. Even the enemies should not use any weapon on cows

4. No one should slaughter the cow

5. Cow brings prosperity and strength

6. If cows keep healthy and happy, men and women shall also keep disease free and prosperous

7. May the cow eat green grass and pure water. May they not be killed and bring prosperity to us.

তারপরও কিছু স্বঘোষিত Scholar হিন্দু বিরোধী Site থেকে copypaste করে যাচ্ছে। এদের উদ্দেশ্যে বলব “অল্পবিদ্যা ভয়ঙ্করী “।

পরমেশ্বর ভগবান রূপে শ্রীকৃষ্ণ সকলের কাছেই সমান|


সমোহহং সর্বভূতেষু ন মে দ্বেষ্যোহস্তি ন প্রিয়ং |

শ্রীকৃষ্ণ কখনো কারো প্রতি বিদ্বেষ পরায়ণ নন, আবার তিনি কারো প্রতি অনুরক্তও নন | সে কথা ভাগবদগীতাতেও কর্ণনা করা হয়েছে-
সুহৃদং সর্বভূতানাং জ্ঞাত্বা মাং শান্তিমমৃচ্ছতি |

তিনি সকলেরই সুহৃদ | আমরা আমাদের আকাঙ্ক্ষা চরিতার্থ করবার জন্য কত ধরনের মানুষের সঙ্গে বন্ধুত্ব কামনা করি, কিন্তু আমরা যদি শ্রীকৃষ্ণকে আমাদের বন্ধুরূপে গ্রহণ করি, তাহলে আমাদের সমস্ত কামনাই পূর্ণ হবে |
উপনিষদে বলা হয়েছে যে এই দেহরূপ একই বৃক্ষে দু'টি পাখি বন্ধুভাবে অবস্থান করেছে |

অতএব একথা আমাদের হৃদয়ঙ্গম করা উচিত যে শ্রীকৃষ্ণই হচ্ছেন আমাদের শ্রেষ্ঠ বন্ধু | শ্রীকৃষ্ণ বলেছেন, তিনি সকলের বন্ধু | এই বন্ধুত্ব সমভাবে বিতরিত | কিন্তু কেউ যদি ভগবানের প্রেমময়ী সেবায় নিযুক্ত হয়ে একজন বিশেষ ভক্তে পরিণত হন, কৃষ্ণ তার প্রতি বিশেষভাবে অনুরক্ত হন |

দেবী দুর্গার মূর্তিতত্ত্ব



বাংলায় দেবী দুর্গার যে মূর্তিটি সচরাচর দেখা যায় সেটি পরিবারসমন্বিতা বা সপরিবার দুর্গার মূর্তি। এই মূর্তির মধ্যস্থলে দেবী দুর্গা সিংহবাহিনী ও মহিষাসুরমর্দিনী; তাঁর ডানপাশে উপরে দেবী লক্ষ্মী ও নিচে গণেশ; বামপাশে উপরে দেবী সরস্বতী ও নিচে কার্তিকেয়।কলকাতায় সাবর্ণ রায়চৌধুরী পরিবার ১৬১০ সালে এই সপরিবার দুর্গার প্রচলন করেন । তাঁরা কার্তিকেয়র রূপ দেন জমিদারপুত্রের, যা তৎপূর্ব ছিল সম্রাট সমুদ্রগুপ্তের আদলে যুদ্ধের দেবতা রূপে । এছাড়াও বাঁকুড়া জেলার বিষ্ণুপুর-সংলগ্ন অঞ্চলে দেবী দুর্গা এক বিশেষ মূর্তি দেখা যায়। সেখানে দেবীর ডানপাশে উপরে গণেশ ও নিচে লক্ষ্মী, বামে উপরে কার্তিকেয় ও নিচে সরস্বতী এবং কাঠামোর উপরে নন্দী-ভৃঙ্গীসহ বৃষভবাহন শিব ও দুইপাশে দেবীর দুই সখী জয়া ও বিজয়া অবস্থান করেন। কলকাতার কোনও কোনও বাড়িতে দুর্গোৎসবে লক্ষ্মী ও গণেশকে সরস্বতী ও কার্তিকেয়ের সঙ্গে স্থান বিনিময় করতে দেখা যায়। আবার কোথাও কোথায় দুর্গাকে শিবের কোলে বসে থাকতেও দেখা যায়। এগুলি ছাড়াও বাংলার বিভিন্ন অঞ্চলে দেবী দুর্গার বিভিন্ন রকমের স্বতন্ত্র মূর্তিও চোখে পড়ে। তবে দুর্গার রূপকল্পনা বা কাঠামোবিন্যাসে যতই বৈচিত্র থাকুক, বাংলায় দুর্গোৎসবে প্রায় সর্বত্রই দেবী দুর্গা সপরিবারে পূজিতা হন। 

এই প্রসঙ্গে স্বামী প্রমেয়ানন্দের উক্তিটি স্মরণীয়ঃ

“ ...ধনদাত্রী লক্ষ্মী, বিদ্যাদায়িনী সরস্বতী, শৌর্য-বীর্যের প্রতীক কার্তিকেয়, সিদ্ধিদাতা গণেশ ও তাঁদের বাহন-সকলের মূর্তিসহ মহামহিমময়ী দুর্গামূর্তির পরিকল্পনা ও পূজা বাংলার নিজস্ব। ”

হিন্দু শাস্ত্রে ‘দুর্গা’ নামটির ব্যাখ্যা নিম্নোক্তরূপে প্রদত্ত হয়েছে :

“ দৈত্যনাশার্থবচনো দকারঃ পরিকীর্তিতঃ।
উকারো বিঘ্ননাশস্য বাচকো বেদসম্মত।।
রেফো রোগঘ্নবচনো গশ্চ পাপঘ্নবাচকঃ।
ভয়শত্রুঘ্নবচনশ্চাকারঃ পরিকীর্তিত।। ”

- ‘দ’ অক্ষর দৈত্যনাশক, উ-কার বিঘ্ননাশক, ‘রেফ’ রোগনাশক, ‘গ’ অক্ষর পাপনাশক ও অ-কার ভয়-শত্রুনাশক। অর্থাৎ, দৈত্য, বিঘ্ন, রোগ, পাপ ও ভয়-শত্রুর হাত থেকে যিনি রক্ষা করেন, তিনিই দুর্গা। অন্যদিকেশব্দকল্পদ্রুম অনুসারে, “দুর্গং নাশয়তি যা নিত্যং সা দুর্গা বা প্রকীর্তিতা” – অর্থাৎ, দুর্গ নামক অসুরকে যিনি বধ করেন তিনিই নিত্য দুর্গা নামে অভিহিতা। আবার শ্রীশ্রীচণ্ডী অনুসারে এই দেবীই ‘নিঃশেষদেবগণশক্তিসমূহমূর্ত্যাঃ’ বা সকল দেবতার সম্মিলিত শক্তির প্রতিমূর্তি।

উপাসনা




উপাসনা অর্থ ঈশ্বরকে স্মরণ করা। একাগ্র চিত্তে ঈশ্বরকে ডাকা। ঈশ্বরের আরাধনা করা। উপাসনা ধর্ম পালনের অন্যতম প্রধান অঙ্গ পদ্ধতি। ধ্যান, জপ, কীর্তন, পূজা, স্তব-স্তুতি, পদ্ধতিতে উপাসনা করা হয়।

একাগ্র চিত্তে ঈশ্বরের চিন্তা করার নাম ধ্যান। নীরবে ঈশ্বরের নাম উচ্চারণ করাকে বলে জপ। সরবে ঈশ্বরের নাম উচ্চারণ বা গুণগান করার নাম কীর্তন। ঈশ্বরের প্রশংসা করে তাঁর নাম উচ্চারণ করাকে বলে স্তব-স্তুতি। 

উপাসনা করলে দেহ-মন পবিত্র হয়। উপাসনার সময় আমরা ঈশ্বরের প্রশংসা করি। তাঁর আশীর্বাদ প্রার্থনা করি। সকলের কল্যাণ কামনা করি।

উপাসনা আবার দুই প্রকার। যেমনঃ সাকার উপাসনা ও নিরাকার উপাসনা।

সাকার উপাসনাঃ 'সাকার' অর্থ যার আকার বা রূপ আছে। আকার বা রূপের মাধ্যমে ঈশ্বরের আরাধনা করাই সাকার উপাসনা। বিভিন্ন দেব-দেবী, যেমন - ব্রহ্মা, বিষ্ণু, শিব, কালী, দুর্গা, লক্ষ্মী, সরস্বতী প্রভৃতি ঈশ্বরের সাকার রূপ। আমরা ঈশ্বরকে দেব-দেবীর প্রতিমা রূপে ও অবতার রূপে উপাসনা করি। এরূপ উপাসনায় ভক্ত ঈশ্বরকে সাকার রূপে কাছে পায়। তাঁকে পূজা করে। তাঁর নিকট প্রার্থনা করে।

নিরাকার উপাসনাঃ ঈশ্বরকে নিরাকার ভাবেও উপাসনা করা যায়। নিরাকার উপাসনায় ভক্ত নিজের অন্তরে ঈশ্বরকে অনুভব করেন। ঈশ্বরের নাম জপ করেন অর্থাৎ নীরবে ঈশ্বরের নাম মনে মনে উচ্চারণ করেন। ঈশ্বরের নাম কীর্তন করেন। তাঁর স্তব-স্তুতি করে তাঁর নিকট প্রার্থনা জানান। নিজের ও জগতের কল্যাণ কামনা করেন। 

সুতরাং ধ্যান, জপ, কীর্তন, পূজা, স্তব-স্তুতি, পদ্ধতিতে আমরা ঈশ্বরের উপাসনা করব। 

উপাসনা একটি নিত্যকর্ম। প্রতিদিন উপাসনা করতে হয়। প্রতিদিন সকাল, দুপুর ও সন্ধ্যায় ঈশ্বরের উপাসনা করা কর্তব্য। উপাসনার জন্য আমাদের দেহ মনের পবিত্রতার প্রয়োজন। পরিষ্কার পরিছন্ন হয়ে উপাসনা করতে হয়। মন্দিরে বা ঘরে বসে উপাসনা করা যায়।

'হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ'



নমষ্কার ।।

যখন আমরা ভগবান শ্রীকৃষ্ণ নামে কীর্তন করি তখন বিভিন্ন বাদ্যযন্ত্র যেমন খোল , করতাল , বাঁশি , জয়ঢাক , হারমোনিয়াম ইত্যাদি বাঁজাই কেন ???

কলিযুগে মনুষ্যকূলের মুক্তির একটি মাত্র পথ শ্রীকৃষ্ণ নাম জপ করা । একাগ্রচিত্তে পৃথিবীর মায়া ভুলে জপতে হয় তাঁর নাম , আরাধনা করি কির্তনে । যখন সকলে মিলে কিংবা একা ভগবান শ্রীকৃষ্ণের নামে আরাধনা করি তখন আমাদের কানে বহিরাগত কিছু শব্দ ভেসে আসে । যা অনিচ্ছা সত্তেও আমাদের মনোযোগ বিচ্ছিন্ন করতে বাধ্য করে ।
'হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ , কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে । হরে রাম হরে রাম , রাম রাম হরে হরে ।।' একাগ্রচিত্তে গানের ছন্দে পাঠ করতে হয় । এই মধুর নাম জপে মনোযোগ বিচ্ছিন্ন হলে তা বিষে পরিনত হয় । যখন এই মধুর নাম জপের তালে কোন বাদ্যযন্ত্রের সমন্বয় করা হয় তখন বহিরাগত কোন শব্দ আমাদের কানে ভেসে আসতে পারে না । ফলে এক মনে এক ধ্যানে আমাদের ভগবান শ্রীকৃষ্ণের আরাধনায় বিগ্ন ঘটে না । সেজন্যেই কীর্তনে কিংবা শ্রীকৃষ্ণের আরাধনায় খোল , করতাল , বাঁশি ইত্যাদি বাঁজানো হয় ।
বাদ্যযন্ত্রের অভাবে তাঁর নাম জপে অন্ততঃ হাতে তালি দিয়ে হলেও হরে কৃষ্ণ জপতে হয় ।।

শান্তির অপর নাম "সনাতন ধর্ম"


হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে

বানী
















মহাভারতে ভগবান # শ্রীকৃষ্ণের কিছু গুরুত্বপূর্ণ বাণী- .


১."সমুদ্র হোক বা সংসার, যে ধর্মের নৌকা প্রস্তুতকরে সে ঠিকই পার হয়ে যায়" -

২."যে কেবল নিজের দুঃখকে আপন করে জীবন কাটায় সে শক্তিহীন হয়ে
পড়ে। কিন্তু যে ব্যাক্তি সমগ্র সমাজের দুঃখ আপন করে জীবন কাটায় সে শক্তিশালী হয়ে ওঠে"

৩.আমি কোন জড় বস্তু নই যে আমাকে চাইলেই পাওয়া যাবে.!
কিন্তু যে ব্যাক্তি আমাকে তার নিজের অধিকার বলে মনেকরেন.. আমি সয়ং নিজেকে তার অধিন বলেই ভাবি..!! শ্রীকৃষ্ণ

৪.কেউ আমার অতি আপন নয় কেউ আমার পর নয়.কিন্তু যখন ধর্ম ও অধর্মের মাঝে যুদ্ধ হয় তখন আমি স্বাভাবিক ভাবেই ধর্মের পক্ষে অবস্থান করি

বেলা শেষে ফিরে এসে পাইনি তোমায়

 

বেলা শেষে ফিরে এসে পাইনি
তোমায়
কৃষ্ণ চূড়ার রংয়ে একেঁছি তোমায়
বুঝনা তুমি তার দুংখেরই ছোঁয়া
সাজিয়ে রেখ মন, মনি কোঠায়
মনে পড়ে যায় প্রস্ন হিন আজ জোসনা দুয়া
রাতের কথোপকথন,,,,?
চোঁখের ভাষায় হত যত আগামী
দিনের
সপ্নের আলাপন,,,,।
কি ভুলে করেছি আমি, আমি আমারই ভুলে, প্রতিনিয়ত আমাকে পোড়ায়,,,
আমার যত অপুর্নতায় পাড়িনি
বুঝাতে
আমি পাড়িনি তোমায়,,, ;
ভুলের মাশুল দিতে গিয়ে জীবন বরে
থাকে বিষন্নতায় শুধু বিষন্নতায়,,,।
বেলা শেষে ফিরে এসে পাইনি
তোমায়
কৃষ্ণ চূড়ার রংয়ে একেঁছি
তোমায়,,,।।