Showing posts with label Story. Show all posts
Showing posts with label Story. Show all posts

Friday, 17 March 2017

শিবরাত্রী কেন পালন করা হয় এবং এর মাহাত্ম্য








শিবরাত্রী কেন পালন করা হয় এবং এর মাহাত্ম্য


পুরাকালের কথা। কৈলাশশিখরে শিব-পার্বতী বাস

করতেন। গন্ধর্ব, সিন্ধ, চারণ প্রভৃতি তাঁদের সেবা

করত। পরম সুখে ছিলেন শিব-পার্বতী। একদা

পার্বতী শিবকে প্রশ্ন করলেন, ভগবান, আপনি

ধর্ম, অর্থ, কাম ও মোক্ষ-দাতা। আপনি কোন ব্রত

বা তপস্যায় সন্তুষ্ট হন?

দেবী পার্বতীর কথা শুনে শিব বললেন,

দেবী, ফাল্গুন মাসের কৃষ্ণপক্ষের চতুর্দশী

তিথীর রাত্রিকে শিবরাত্রি বলা হয়। এ রাত্রিতে

উপবাস করলে আমি অত্যন্ত সন্তুষ্ট হই। স্নান,

বস্ত্র, ধূপ, পুষ্প ও অর্চনায় আমি যতটুকু সন্তুষ্ট হই

তার চেয়ে বেশি সন্তুষ্ট হই শিবরাত্রির উপবাসে।

তিনি আরও বলেন, ব্রতপালনকারী

ত্রয়োদশীতে স্নান করে সংযম পালন করবে।

স্বপক্ব নিরামিষ বা হবিষ্যান্ন ভোজন করবে।

স্থণ্ডিল ( ভূমি বা বালু বিছানো যজ্ঞবেদী) অথবা

কুশ বিছিয়ে শয়ন করে আমার (অর্থাৎ শিবের) নাম

স্মরণ করতে থাকবে। রাত্রি শেষ হলে শয্যা ত্যাগ

করে প্রাতঃ ক্রিয়াদি করবে অন্যান্য আবশ্যক কার্যাদি

করবে। সন্ধ্যায় যথাবিধি পূজাদি করে বিল্বপত্র সংগ্রহ

করবে। তারপর নিত্যক্রিয়াদি করবে। অতঃপর

স্থণ্ডিলে (যজ্ঞবেদীতে), সরোবরে,

প্রতীকে বা প্রতিমায় বিল্বপত্র দিয়ে আমার পূজা

করবে। একটি বিল্বপত্র দ্বারা পূজা করলে আমার

যে প্রীতি জন্মে, সকল প্রকার পুষ্প একত্র

করে কিংবা মণি, মুক্তা, প্রবাল বা স্বর্ণনির্মিত পুষ্প

দিয়ে আমার পূজা করলেও, আমার তার সমান প্রীতি

জন্মে না।

প্রহরে প্রহরে বিশেষভাবে স্নান করিয়ে আমার

পূজা করবে। পুষ্প, গন্ধ, ধূপাদি দ্বার যথোচিত অর্চনা

করবে। প্রথম প্রহরে দুগ্ধ, দ্বিতীয় প্রহরে

দধি, তৃতীয় প্রহরে ঘৃত এবং চতুর্থ প্রহরে মধু

দিয়ে আমাকে স্নান করাবে এবং পূজা করবে। এছাড়া


যথাশক্তি নৃত্যগীতাদি দ্বারা আমার প্রীতি সম্পাদন

করবে।

হে দেবী, এই হল আমার প্রীতিকর ব্রত। এ

ব্রত করলে অপস্যা ও যজ্ঞের পুণ্য লাভ হয় এবং

ষোল কলায় দক্ষতা জন্মে। এ ব্রতের প্রভাবে

সিদ্ধি লাভ হয়। অভিলাষী ব্যক্তি সপ্তদীপা পৃথিবীর

অধীশ্বর হয়।

শিব পার্বতীকে আরও বলেন, এবার শিবচতুদর্শী

তিথির মাহাত্ম বলছি, শোন।

একদা সর্বগুণযুক্ত বারাণসী পুরীতে ভয়ঙ্কর এক

ব্যাধ বাস করত। বেঁটে-খাটো ছিল তার চেহারা, আর

তার গায়ের রং ছিল কালো। চোখ আর চুলের রং

ছিল কটা। নিষ্ঠুর ছিল তার আচরণ। ফাঁদ জাল, দড়ির ফাঁস

এবং প্রাণী হত্যার নানা রকম হাতিয়ারে পরিপূর্ণ ছিল তার

বাড়ি।

একদিন সে বনে গিয়ে অনেক পশু হত্যা করল।

তারপর নিহত পশুদের মাংসভার নিয়ে নিজের বাড়ির

দিকে রওনা হল। পথে শ্রান্ত হয়ে সে বনের

মধ্যে বিশ্রামের জন্য একটি বৃক্ষমূলে শয়ন

করলে এবং একটু পরেই নিদ্রিত হল।

সূর্য অস্ত গেল। এল ভয়ঙ্কর রাত্রি। ব্যাধ জেগে

উঠল। ঘোর অন্ধকারে কোন কিছুই কারও

দৃষ্টিগোচর হল না। অন্ধকারে হাতড়ে হাতড়ে সে

একটি শ্রীফলবৃক্ষ অর্থাৎ বিল্ববৃক্ষ পেল। সেই

বিল্ববৃক্ষে সে লতা দিয়ে তার মাংসভার বেঁধে

রাখল। বৃক্ষতলে হিংস্র জন্তুর ভয় আছে। এই

ভেবে সে নিজেও ঐ বিল্ববৃক্ষে উঠে পড়ল।

শীতে ও ক্ষুধায় তার শরীর কাপঁতে লাগল।

এভাবে সে শিশিরে ভিজেই জেগে কাটাল সারা

রাত।

দৈববশত সেই বিল্ববৃক্ষমূলে ছিল আমার (অর্থাৎ

শিবের) এতটি প্রতীক। তিথিটি ছিল শিবচতুর্দশী।

আর ব্যাধও সেই রাত্রি কাটিয়েছিল উপবাসে। তার

শরীর থেকে আমার প্রতীকের ওপর হিম বা

শিশির ঝরে পড়েছিল। তার শরীরের ঝাঁকুনিতে

বিল্বপত্র পড়েছিল আমার প্রতীকের ওপর।

এভাবে উপবাসে বিল্বপত্র প্রদানে এবং শিশিরস্নানে

নিজের অজান্তেই ব্যাধ শিবরাত্রিব্রত করে

ফেলল।

দেবী, তিথিমাহাত্মে কেবল বিল্বপত্রে আমার

যে প্রীতি হয়েছিল, স্নান, পূজা বা নৈবেদ্যদি

দিয়েও সে প্রীতি সম্পাদন সম্ভব নয়। তিথি

মাহাত্মে ব্যাধ মহাপূণ্য লাভ করেছিল। পরদিন উজ্জল

প্রভাতে ব্যাধ নিজের বাড়িতে চলে গেল।

কালক্রমে ব্যাধের আয়ু শেষ হল। যমদূত তার

আত্মাকে নিতে এসে তাকে যথারীতি যমপাশে

বেঁধে ফেলতে উদ্যত হল। অন্যদিকে আমার

প্রেরিত দূত ব্যাধকে শিবলোকে নিয়ে এল। আর

আমার দূতের দ্বারা আহত হয়ে যমদূত যমরাজকে

নিয়ে আমার পুরদ্বারে উপস্থিত হল। দ্বারে শিবের

অনুচর নন্দীকে দেখে যম তাকে সব ঘটনা

বললেন।

এই ব্যাধ সারা জীবন ধরে কুকর্ম করেছে।

জানালেন যম।

তার কথা শুনে নন্দী বললেন,

ধর্মরাজ, এতে কোন সন্দেহই নেই যে ঐ ব্যাধ

দুরাত্মা। সে সারা জীবন অবশ্যই পাপ করেছে।

কিন্তু শিবরাত্রি ব্রতের মাহাত্মে সে পাপমুক্ত

হয়েছে এবং সর্বেশ্বর শিবের কৃপা লাভ করে

শিবলোকে এসেছে।

নন্দীর কথা শুনে বিস্মিত হলেন ধর্মরাজ। তিনি

শিবের মাহাত্মর কথা ভাবতে ভাবতে যমপুরীতে

চলে গেল।

শিব পার্বতীকে আরও বলেলেন, এই হল

শিবরাত্রিব্রতের মাহাত্ম।

শিবের কথা শুনে শিবজায়া হিমালয় কন্যা পার্বতী

বিস্মিত হলেন। তিথি শিবরাত্রিব্রতের মাহাত্ম্য

নিকটজনের কাছে বর্ণনা করলেন। তাঁরা আবার তা

ভক্তি ভরে জানালেন পৃথিবীর বিভিন্ন রাজাকে। এ

ভাবে শিবরাত্রিব্রত পৃথিবীতে প্রচলিত হল।


(তথ্যসূত্র: শিব পুরান )

Wednesday, 15 March 2017

ॐॐ শ্রীকৃষ্ণের অষ্টোত্তর শতনাম ॐॐ









ॐॐ শ্রীকৃষ্ণের অষ্টোত্তর শতনাম ॐॐ

____________________________

জয় জয় গোবিন্দ গোপাল গদাধর।

কৃষ্ণচন্দ্র কর দয়া করুণাসাগর।।

জয় রাধে গোবিন্দু গোপাল বনমালী।

শ্রীরাধার প্রাণধন মুকন্দ মুরারি।।

হরিনাম বিনে রে গোবিন্দু নাম বিনে।

বিফলে মনুষ্য জন্ম যায় দিনে দিনে।।

দিন গেল মিছে কাজে রাত্রি গেল নিদ্রে।

না ভজিনু রাধাকৃষ্ণ চরণার বিন্দে।।

কৃষ্ণ ভজিবার তরে সংসারে আইনু।

মিছে মায়ায় বদ্ধ হ’য়ে বৃক্ষসম হৈনু।।

ফলরূপে পুত্র কন্যা ডাল ভাঙ্গি পড়ে।

কালরূপে সংসারেতে পক্ষী বাসা করে।।

যখন কৃষ্ণ জন্ম নিল দৈবকী উদরে।

মথুরাতে দেবগণ পুষ্পবৃষ্টি করে।।

বসুদেব রাখি এলো নন্দের মন্দিরে।

নন্দের আলয়ে কৃষ্ণ দিনে দিনে বাড়ে।।

শ্রীনন্দ রাখিল নাম নন্দের নন্দন।১
                                                              

Wednesday, 16 September 2015

জগন্নাথ পুরীর ১২ বিস্ময়!!!




১) আমরা জানি পুরীতে জগন্নাথ, বলদেব ও সুভদ্রা দেবীর জন্য ৩টি রথ । কিন্তু শুনে অবাক হবেন যে, একসময় পুরীতে রথযাত্রার সময় ৬টি রথ ব্যবহৃত হত । প্রথম দিকে পুরীর মন্দির এবং মাসীমা মন্দিরের (গুন্ডিচা মন্দির) মধ্যবর্তী স্থানে একটি নদী পেবাহিত হত । তাই নদীর এই পারে ৩টি রথ এবং ঐ পারে ৩টি রথ ব্যবহৃত হত, এই পারের মন্দির থেকে নদী পর্যন্ত এবং ঐ পারের নদী থেকে মাসীমা মন্দির পর্যন্ত রথগুলো ব্যবহৃত হত । মাঝখানে নদী পারাপারের জন্য একটি বিশাল নৌকা ব্যবহৃত হত যাতে ভগবান জগন্নাথ, বলদেব, সুভদ্রা দেবীর বিগ্রহ থাকত ।

২) জগন্নাথ মন্দিরের একসময়কার বিখ্যাত ভজন গায়কের নাম ছিল মোহাম্মদ আজিজ । তিনি ভগবান জগন্নাথদেবকে সুমধুর ভজন শোনানোর জন্য বিখ্যাত ছিলেন ।

৩) যীশুখ্রীষ্ট ভগবান জগন্নাথদেবকে অলক্ষ্যে দর্শন করার জন্য পুরী ভ্রমণ করেছিলেন । এর প্রমাণ পাওয়া যায় পুরীর জগন্নাথ মন্দিরের ভিতরে মূল মন্দিরের পেছন দিকে একটি বিশাল আকৃতির ক্রুস অভিষিক্ত রয়েছে ।

৪) ইতিহাস স্বাক্ষ্য দেয় যে, ভগবান জগন্নাথদেব ও ভগবান বুদ্ধদেবের মধ্যেও এক অন্তরঙ্গ সম্পর্ক ছিল । এমনকি পুরীতে ভগবান বুদ্ধদেবের অনেক নিদর্শন দেখতে পাওয়া যায় । অপরদিকে শিখদের ধর্মীয় গুরু নানকের কাছেও জগন্নাথদেব প্রিয় ছলেন ।

৫) মন্দিরে ভগবানকে সর্বোচ্চ ৫৬ প্রকার ভোগ নিবেদন করা হয় তা অনেকেরেই জানা । কিন্তু এটি হয়ত অজানা যে জগন্নাথকে কোন বিশেষ বিশেষ মুহূর্তে সময় প্রতিদিন ৮৮ প্রকার ভোগ নিবেদন করা হয় এবং বিশেষ বড় বড় উৎসবের সময় এর চেয়েও বেশি ভোগ ভগবানকে নিবেদন করা হয় ।

৬) শ্রী জগন্নাথ মন্দিরে যে ভোগমণ্ডপটি রয়েছে এটি প্রকৃতপক্ষে কর্ণাটক মন্দিরের অংশ, যেটি ১৮ শতাব্দীতে মারাঠা কর্তৃক মন্দিরটির কিছু অংশ ধ্বংস হয়েছিল পরবর্তীতে তার কিছু অংশ পুরী মন্দিরের ভোগমণ্ডপ হিসেবে ব্যবহৃত হয় ।

৭) ‘অবধা’ অর্থাৎ ভগবান জগন্নাথদেবের অদ্ভুদ প্রসাদের নাম যে কেউ তৈরি করে না । নিজে নিজেই এই সুস্বাদু-কৃষ্ণ প্রসাদ তৈরি হয় । সবচেয়ে অবিশ্বাস্য যে, বিশাল আকৃতির চুল্লীতে একটির পর একটি বসানো মাটির তৈরি পাত্রে সব উপাদান দিয়ে বসিয়ে দিলে সবচেয়ে উপরের পাত্রটি প্রথমে তৈরি হয়ে যায় । অথচ প্রথা অনুযায়ী বা বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিতে নিচের পাত্রটিই আগুনের তাপে প্রথম তৈরি হওয়ার কথা । যা পুরী মন্দিরের অবিশ্বাস্য এক প্রাত্যাহিক ঘটনা । বলা হয় যে, এ প্রসাদ্গুলো স্বয়ং মহালক্ষ্মী রান্না করেন ।

৮) অনেকেই হয়ত জানেন জগন্নাথ পুরীর মন্দিরটি পুরাটাই মহারাজ ইন্দ্রদ্যুম্ন তৈরি করেছেন । কিন্তু সেই জানার মধ্যে ভুল আছে । প্রকৃতপক্ষে মহারাজ ইন্দ্রদ্যুম্ন শুধু মূল মন্দিরটিই তৈরি করেছিলেন । পুরীর বাকি যেসব অবকাঠামো রয়েছে যেমন মেঘানন্দ পাচেরী, মুখ্য শালা, নাটমন্ডপ এবং অন্যান্য অবকাঠামো বা মন্দিরগুলো তৈরি করেছিল সময়ের আবর্তনে আগত বিভিন্ন রাজা এবং শাসকরা ।

৯) গর্ভ মুর, হল পুরী মন্দিরের সবচেয়ে অদ্ভুদ অংশ যেখানে ভগবানের সবরকমের মূল্যবান অলংকারসমূহ সংরক্ষণ রাখা হয় । এগুলো রক্ষনাবেক্ষনের জন্য যারা নিয়োজিত তারা হল কতগুলো বিষধর অদ্ভূত সাপ এবং স্বর্গীয় আত্মা ।

১০) অপরদিকে রত্ন মুর নামে মন্দিরে উপরের অংশটিতে একটি অদ্ভূত বৃহৎ চুম্বক শক্তি রয়েছে । যেটি মন্দিরকে ঝড়ো বা প্রবল দমকা হাওয়ার স্থির রাখতে বা কোন ধ্বংস হওয়া থেকে অদ্ভূতভাবে সুরক্ষা করে । বলা হয়ে থাকে যে, মাঝে মাঝে ঐ অংশে তড়িৎ চুম্বকীয় শক্তির বিশেষ পরিবর্তন পরিলক্ষিত হয় । যা সত্যিই অদ্ভূত ।

১১) আপনি কি জানেন, রথযাত্রার সময় জগন্নাথ, বলদেব এবং সুভদ্রা দেবী যখন রথে আরোহন করে তখন সুদর্শন কোথায় অবস্থান করেন? অনেকেই বলবে জগন্নাথদেবের পাশে কিন্তু অদ্ভূত হলেও সত্য সুদর্শন জগন্নাথের পাশে না বরঞ্চ সুভদ্রা দেবীর পাশে অবস্থান করেন । তখন জগন্নাথের পাশে ‘মদনমোহন’ বিগ্রহ এবং বলদেবের দু’পাশে ‘রামচন্দ্র’ এবং ‘কৃষ্ণ’ এ দুটি পিতলের বিগ্রহ অবস্থান করেন ।

১২) জগন্নাথের সম্মুখে নৃত্য প্রদর্শনের জন্য একদল সেবিকা রয়েছে যাদেরকে দেবদাসী নামে অভিহিত করা হয় । সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় হল এসব সেবিকারদের ৯ বছর বয়সেই বিয়ে হয় স্বয়ং জগন্নাথের বিগ্রহের সঙ্গে । এরা নিজেদেরকে ভগবানের কাছে উৎসর্গ করে শুধুমাত্র এ নির্দিষ্ট সেবা নৃত্য প্রদর্শন করে । এ প্রথা স্বয়ং জগন্নাথদেবেরই নির্দেশে প্রচলিত । এক্ষেত্রে এর পিছনে একটি প্রাচীন সুন্দর কাহিনী রয়েছে । প্রতিদিন এসব দেবদাসী কিছু বিশেষ বিশেষ সময়ে ভগবানের সামনে তাদের নৃত্য প্রদর্শন করে থাকে । নৃত্য প্রদর্শনের সময় তারা দর্শকদের দিকে তাকাবে না । তাদের সকল মনোযোগ ভগবানকে কেন্দ্র করে । তাদের জন্য পুরুষ সঙ্গ নিষিদ্ধ ।

এভাবে যুগে যুগে জগন্নাথ পুরী সারা বিশ্বের মানুষের কাছে বিস্ময়ের এবং অদ্ভূত স্থান হিসেবে এই পৃথিবীতে অবস্থান করছে । এখনো মানুষ অবাক বিস্ময় জগন্নাথ এবং জগন্নাথ পুরীর অদ্ভূত সব কার্যকলাপের কথা শ্রবণ করে এবং স্বচক্ষে দর্শনের অভিলাষ করে ।

Monday, 14 September 2015

ছবির এই মানুষটি সেই অগ্নিযুগের স্রষ্টা, অগ্নিযুগের মহানায়ক মাস্টারদা সূর্য সেন



এই শান্ত ও নীরিহ চেহারার মানুষটি একবার উলকার মত জ্বলে উঠেছিলেন। তাঁর সাথে ব্যক্তিগত আলাপ ছিল এমন অনেক মানুষও বিশ্বাস করতে পারেননি যে তাঁকে দিয়ে এই কাজ সম্ভব! এত নম্র মানুষটা কি করে একটা বিদ্রোহের বিষ্ফোরণ ঘটিয়েছিলেন! বিষ্ফোরণ সৃষ্টি করেছিল একটি যুগের। যার নাম অগ্নিযুগ! আর ছবির এই মানুষটি সেই অগ্নিযুগের স্রষ্টা, অগ্নিযুগের মহানায়ক মাস্টারদা সূর্য সেন।ফাসির রায় হবার পর তাঁর সহযোদ্ধাদের উদ্দেশ্যে মাস্টারদার শেষ চিঠি নিচে দেয়া হল। পড়ুন, অনুভব করুন...
-----------------------------------------------------------------------------------

"আমার শেষ বাণী-আদর্শ ও একতা। ফাঁসির রজ্জু আমার মাথার উপর ঝুলছে। মৃত্যু আমার দরজায় করাঘাত করছে। মন আমার অসীমের পানে ছুটে চলছে। এই ত’ সাধনার সময়। বন্ধুরূপে মৃত্যুকে আলিঙ্গন করার এই ত সময়। ফেলে আসা দিনগুলোকেও স্মরণ করার এই ত সময়।

কত মধুর তোমাদের সকলের স্মৃতি। তোমরা আমার ভাইবোনেরা, তোমাদের মধুর স্মৃতি বৈচিএ্যহীন আমার এই জীবনের একঘেঁয়েমিকে ভেঙ্গে দেয়। উৎসাহ দেয় আমাকে। এই সুন্দর পরম মুহুর্তে আমি তোমাদের জন্য দিয়ে গেলাম স্বাধীন ভারতের স্বপ্ন। আমার জীবনের এক শুভ মুহুর্তে এই স্বপ্ন আমাকে অনুপ্রাণিত করছিল। জীবনভর উৎসাহ ভরে ও অক্লান্তভাবে পাগলের মত সেই স্বপ্নের পিছনে আমি ছুটেছি। জানিনা কোথায় আজ আমাকে থেমে যেতে হচ্ছে। লক্ষে পৌছানোর আগে মৃত্যুর হিমশীতল হাত আমার মত তোমাদের স্পর্শ করলে তোমরাও তোমাদের অনুগামীদের হাতে এই ভার তুলে দেবে, আজ যেমন আমি তোমাদের হাতে তুলে দিয়ে যাচ্ছি। আমার বন্ধু্রা- এগিয়ে চল। এগিয়ে চল- কখনো পিছিয়ে যেও না। পরাধীনতার অন্ধকার দূরে সরে যাচ্ছে। ঐ দেখা যাচ্ছে স্বাধীনতার নবারুন। কখনো হতাশ হয়ো না। সাফল্য আমাদের হবেই। ভগবান তোমাদের আশির্বাদ করুন।
১৯৩০ সালের ১৮ই এপ্রিল চট্টগ্রাম ইস্টার বিদ্রোহের কথা কোন দিনই ভুলে যেও না। জালালাবাদ, জুলধা, চন্দননগর ও ধলঘাটের সংগ্রামের কথা সব সময় মনে রেখো। ভারতের স্বাধীনতার বেদীমূলে যে সব দেশপ্রেমিক জীবন উৎসর্গ করেছেন, তাদের নাম রক্তাক্ষরে অন্তরের অন্তরতম প্রদেশে লিখে রেখো।
আমাদের সংগঠনে বিভেদ না আসে- এই আমার একান্ত আবেদন। যারা কারাগারের ভিতরে ও বাইরে রয়েছে, তাদের সকলকে জানাই আমার আশির্বাদ। বিদায় নিলাম তোমাদের কাছ থেকে।

বিপ্লব দীর্ঘজীবী হোক
বন্দে মাতরম্‌।"
(collected)

Sunday, 13 September 2015

স্মৃতি শাস্ত্রের বিখ্যাত গ্রন্থ মনুসংহিতায় আট প্রকার বিবাহের কথা বলা আছে।


"বিবাহ" শব্দটি বি-পূর্বক বহ্ ধাতু ও ঘঞ্ প্রত্যয়যোগে গঠিত। বহ্ধাতুর অর্থ বহন করা এবং "বি" উপসর্গের অর্থ বিশেষরুপে।সুতরাং বিবাহ শব্দের অর্থ বিষেশ রুপে বহন করা। বিবাহের ফলে পুরুষ স্ত্রীর ভরণ-পোষণ এবং মানসম্ভ্রমরক্ষার সার্বিক ভার বহন করতে হয়।

স্মৃতি শাস্ত্রের বিখ্যাত গ্রন্থ মনুসংহিতায় আট প্রকার বিবাহের কথা বলা আছে। 

সেগুলো হল:-

(১) ব্রাহ্ম
(২) আর্য
(৩) প্রাজাপত্য
(৪) আসুর
(৫) গান্ধর্ব
(৬) রাক্ষস
(৭) দৈব
(৮) পৈশাচ

জাতি এবং শ্রেণী বিভাগে এই বিবাহ গুলো হয়ে থাকে তবে ব্রাহ্ম, দৈব, আর্য, প্রাজাপত্য বিবাহ রীতি গুলোই প্রচলিত।

বর্তমান মানব সমাজে ব্রাহ্ম বিবাহই স্বীকৃত এবং পালনীয়।
ব্রাহ্ম বিবাহ হল - কন্যাকে বস্ত্র দ্বারা আচ্ছাদন করে এবং অলংকার দ্বারা আচ্ছাদন করে বিদ্বান ও সদাচারী বরকে স্বয়ং আমন্ত্রন করে যে কন্যা দান করা হয়তাকে ব্রাহ্মবিবাহ।

বর্তমানে কেউ না মানলেও সমাজে গান্ধর্ব বিবাহের প্রচলন আছে। নারী-পুরুষ পরস্পর শপথ করে মাল্যবিনিময়ের মাধ্যমে যে বিবাহ করে তার নাম গান্ধর্ব বিবাহ। এর উদাহরণ, মহাভারতে দুষ্মন্ত ও শকুন্তলার বিবাহ গাদ্ধর্ব বিবাহ ছিল।

বেদে খুব পরিষ্কার ভাবে বলা হয়েছেঃ
উদীর্স্বাতো বিশ্বাবাসো নমসেলামহে ত্বা ।
অন্যামিচ্ছ প্রফর্ব্যং সং জায়াং পত্যা সৃজ ।।১০/৮৫/২২।।
---অর্থাত্ তুমি যাও ও অবিবাহিত নারীকে তোমার অর্ধাঙ্গিণী কর এবং তাকে সমান অধিকার প্রদান কর।

আমাদের সনাতন বিবাহে কত গুলো বিধিবিধান শাস্ত্রীয়, কিছু অনুষ্ঠান আচার রয়েছে। শুভলগ্নে নারায়ণ, অগ্নি, শিব, দূর্গা, গুরু ইত্যাদি দেবতাকে আহবান করে এবং পুরোহিত আত্মীয় স্বজনদের সাক্ষী করে মঙ্গল মন্ত্রের উচ্চারণ, উলুধ্বনি ও শঙ্খধ্বনির মাধ্যমে বিবাহনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়। বিয়ের মন্ত্রের শেষ হয় যজ্ঞের মাধ্যমে।

বিবাহের মূল মন্ত্র যা স্বামী স্ত্রীরা প্রতিজ্ঞা করে থাকে :
"যদেতত্ হৃদয়ং তব তদস্তু হৃদয়ং মম ।
যদিদং হৃদয়ং মম, তদস্তু হৃদয়ং তব ।।"
—তোমার এই হৃদয় আমার হোক আমার এইহৃদয় তোমার হোক।

বিবাহের মাধ্যমে একজন নারীপুরুষ চীর জীবন একসাথে সুখে দুঃখে থাকবার প্রতিজ্ঞা করে। বিবাহ আমাদের সনাতন ধমেঃর একটি অন্যতম অংশ। প্রত্যেকেরই জীবনকে পরিপূর্ণ করতে বিবাহ করা আবশ্যক।
"সত্যমেব জয়তে''

দেবী দুর্গার মূর্তিতত্ত্ব



বাংলায় দেবী দুর্গার যে মূর্তিটি সচরাচর দেখা যায় সেটি পরিবারসমন্বিতা বা সপরিবার দুর্গার মূর্তি। এই মূর্তির মধ্যস্থলে দেবী দুর্গা সিংহবাহিনী ও মহিষাসুরমর্দিনী; তাঁর ডানপাশে উপরে দেবী লক্ষ্মী ও নিচে গণেশ; বামপাশে উপরে দেবী সরস্বতী ও নিচে কার্তিকেয়।কলকাতায় সাবর্ণ রায়চৌধুরী পরিবার ১৬১০ সালে এই সপরিবার দুর্গার প্রচলন করেন । তাঁরা কার্তিকেয়র রূপ দেন জমিদারপুত্রের, যা তৎপূর্ব ছিল সম্রাট সমুদ্রগুপ্তের আদলে যুদ্ধের দেবতা রূপে । এছাড়াও বাঁকুড়া জেলার বিষ্ণুপুর-সংলগ্ন অঞ্চলে দেবী দুর্গা এক বিশেষ মূর্তি দেখা যায়। সেখানে দেবীর ডানপাশে উপরে গণেশ ও নিচে লক্ষ্মী, বামে উপরে কার্তিকেয় ও নিচে সরস্বতী এবং কাঠামোর উপরে নন্দী-ভৃঙ্গীসহ বৃষভবাহন শিব ও দুইপাশে দেবীর দুই সখী জয়া ও বিজয়া অবস্থান করেন। কলকাতার কোনও কোনও বাড়িতে দুর্গোৎসবে লক্ষ্মী ও গণেশকে সরস্বতী ও কার্তিকেয়ের সঙ্গে স্থান বিনিময় করতে দেখা যায়। আবার কোথাও কোথায় দুর্গাকে শিবের কোলে বসে থাকতেও দেখা যায়। এগুলি ছাড়াও বাংলার বিভিন্ন অঞ্চলে দেবী দুর্গার বিভিন্ন রকমের স্বতন্ত্র মূর্তিও চোখে পড়ে। তবে দুর্গার রূপকল্পনা বা কাঠামোবিন্যাসে যতই বৈচিত্র থাকুক, বাংলায় দুর্গোৎসবে প্রায় সর্বত্রই দেবী দুর্গা সপরিবারে পূজিতা হন। 

এই প্রসঙ্গে স্বামী প্রমেয়ানন্দের উক্তিটি স্মরণীয়ঃ

“ ...ধনদাত্রী লক্ষ্মী, বিদ্যাদায়িনী সরস্বতী, শৌর্য-বীর্যের প্রতীক কার্তিকেয়, সিদ্ধিদাতা গণেশ ও তাঁদের বাহন-সকলের মূর্তিসহ মহামহিমময়ী দুর্গামূর্তির পরিকল্পনা ও পূজা বাংলার নিজস্ব। ”

হিন্দু শাস্ত্রে ‘দুর্গা’ নামটির ব্যাখ্যা নিম্নোক্তরূপে প্রদত্ত হয়েছে :

“ দৈত্যনাশার্থবচনো দকারঃ পরিকীর্তিতঃ।
উকারো বিঘ্ননাশস্য বাচকো বেদসম্মত।।
রেফো রোগঘ্নবচনো গশ্চ পাপঘ্নবাচকঃ।
ভয়শত্রুঘ্নবচনশ্চাকারঃ পরিকীর্তিত।। ”

- ‘দ’ অক্ষর দৈত্যনাশক, উ-কার বিঘ্ননাশক, ‘রেফ’ রোগনাশক, ‘গ’ অক্ষর পাপনাশক ও অ-কার ভয়-শত্রুনাশক। অর্থাৎ, দৈত্য, বিঘ্ন, রোগ, পাপ ও ভয়-শত্রুর হাত থেকে যিনি রক্ষা করেন, তিনিই দুর্গা। অন্যদিকেশব্দকল্পদ্রুম অনুসারে, “দুর্গং নাশয়তি যা নিত্যং সা দুর্গা বা প্রকীর্তিতা” – অর্থাৎ, দুর্গ নামক অসুরকে যিনি বধ করেন তিনিই নিত্য দুর্গা নামে অভিহিতা। আবার শ্রীশ্রীচণ্ডী অনুসারে এই দেবীই ‘নিঃশেষদেবগণশক্তিসমূহমূর্ত্যাঃ’ বা সকল দেবতার সম্মিলিত শক্তির প্রতিমূর্তি।

পুরীর শ্রী শ্রী জগন্নাথ মন্দির নানা অলৌকিক রহস্যে ভরা।আমরা এখানে তা তুলে ধরছিঃ



1) এই মন্দিরের কোনো ছায়া পরে না।

(2) মন্দিরের চূড়ার পতাকা বায়ুর উল্টো দিকে ওড়ে।

(3) মন্দিরের উপর আজ পযন্ত কোনো পাখি বসতে দেখা যায়নি।

(4) মন্দিরের ওপর দিয়ে কোন বিমান,পাখি উড়ে যেতে পারে না।

(5) মন্দিরের সিংহদ্বারে সমূদ্রের ঢেউয়ের শব্দ শোনা যায়।

(6) মহাপ্রসাদ রান্না হয় পরপর সাতটি মাটির পাত্রে একসাথে(একটির উপরে আরেকটি বসানো হয়) কিন্তু রান্না হয় উপরের হাঁড়িতে সবার প্রথমে।

(7) ভক্ত সংখ্যা কম বেশি হলেও প্রসাদের কম বেশি হয় না।কেউই অভুক্ত থাকেন না।

(8)মন্দিরের রান্নাঘরের ভিতর দিয়ে গঙ্গানদী প্রবাহমান,যা বাইরে থেকে দেখা যায় না।


ভগবান শ্রী কৃষ্ণের অষ্টোত্তর শতনাম




জয় জয় গোবিন্দ গোপাল গদাধর।
কৃষ্ণচন্দ্র কর দয়া করুণাসাগর।।

জয় রাধে গোবিন্দু গোপাল বনমালী।
শ্রীরাধার প্রাণধন মুকন্দ মুরারি।।

হরিনাম বিনে রে গোবিন্দু নাম বিনে।
বিফলে মনুষ্য জন্ম যায় দিনে দিনে।।

দিন গেল মিছে কাজে রাত্রি গেল নিদ্রে।
না ভজিনু রাধাকৃষ্ণ চরণার বিন্দে।।

কৃষ্ণ ভজিবার তরে সংসারে আইনু।
মিছে মায়ায় বদ্ধ হ’য়ে বৃক্ষসম হৈনু।।

ফলরূপে পুত্র কন্যা ডাল ভাঙ্গি পড়ে।
কালরূপে সংসারেতে পক্ষী বাসা করে।।

যখন কৃষ্ণ জন্ম নিল দৈবকী উদরে।
মথুরাতে দেবগণ পুষ্পবৃষ্টি করে।।

বসুদেব রাখি এলো নন্দের মন্দিরে।
নন্দের আলয়ে কৃষ্ণ দিনে দিনে বাড়ে।।

শ্রীনন্দ রাখিল নাম নন্দের নন্দন।১
যশোদা রাখিল নাম যাদু বাছাধন।।২
উপানন্দ নাম রাখে সুন্দর গোপাল।৩
ব্রজবালক নাম রাখে ঠাকুর রাখাল।।৪
সুবল রাখিল নাম ঠাকুর কানাই।৫
শ্রীদাম রাখিল নাম রাখাল রাজা ভাই।।৬
ননীচোরা নাম রাখে যতেক গোপিনী।৭
কালসোনা নাম রাখে রাধা-বিনোদিনী।।৮
কুজ্বা রাখিল নাম পতিত-পাবন হরি।৯
চন্দ্রাবলী নাম রাখে মোহন বংশীধারী।।১০
অনন্ত রাখিল নাম অন্ত না পাইয়া।১১
কৃষ্ণ নাম রাখেন গর্গ ধ্যানেতে জানিয়া।।১২
কন্বমুনি নাম রাখে দেব চক্রপাণী।১৩
বনমালী নাম রাখে বনের হরিণী।।১৪
গজহস্তী নাম রাখে শ্রীমধুসূদন।১৫
অজামিল নাম রাখে দেব নারায়ন।।১৬
পুরন্দর নাম রাখে দেব শ্রীগোবিন্দ।১৭
দ্রৌপদী রাখিল নাম দেব দীনবন্ধু।।১৮
সুদাম রাখিল নাম দারিদ্র-ভঞ্জন।১৯
ব্রজবাসী নাম রাখে ব্রজের জীবন।।২০
দর্পহারী নাম রাখে অর্জ্জুন সুধীর।২১
পশুপতি নাম রাখে গরুড় মহাবীর।।২২
যুধিষ্ঠির নাম রাখে দেব যদুবর।২৩
বিদুর রাখিল নাম কাঙ্গাল ঈশ্বর।।২৪
বাসুকি রাখিল নাম দেব-সৃষ্টি স্থিতি।২৫
ধ্রুবলোকে নাম রাখে ধ্রুবের সারথি।।২৬
নারদ রাখিল নাম ভক্ত প্রাণধন।২৭
ভীষ্মদেব নাম রাখে লক্ষ্মী-নারায়ণ।।২৮
সত্যভামা নাম রাখে সত্যের সারথি।২৯
জাম্বুবতী নাম রাখে দেব যোদ্ধাপতি।।৩০
বিশ্বামিত্র নাম রাখে সংসারের সার।৩১
অহল্যা রাখিল নাম পাষাণ-উদ্ধার।।৩২
ভৃগুমুনি নাম রাখে জগতের হরি।৩৩
পঞ্চমুখে রাম নাম গান ত্রিপুরারি।।৩৪
কুঞ্জকেশী নাম রাখে বলী সদাচারী।৩৫
প্রহ্লাদ রাখিল নাম নৃসিংহ-মুরারী।।৩৬
বশিষ্ঠ রাখিল নাম মুনি-মনোহর।৩৭
বিশ্বাবসু নাম রাখে নব জলধর।।৩৮
সম্বর্ত্তক নাম রাখে গোবর্দ্ধনধারী।৩৯
প্রাণপতি নাম রাখে যত ব্রজনারী।।৪০
অদিতি রাখিল নাম আরতি-সুদন।৪১
গদাধর নাম রাখে যমল-অর্জুন।।৪২
মহাযোদ্ধা নাম রাখি ভীম মহাবল।৪৩
দয়ানিধি নাম রাখে দরিদ্র সকল।।৪৪
বৃন্দাবন-চন্দ্র নাম রাখে বিন্দুদূতি।৪৫
বিরজা রাখিল নাম যমুনার পতি।।৪৬
বাণী পতি নাম রাখে গুরু বৃহস্পতি।৪৭
লক্ষ্মীপতি নাম রাখে সুমন্ত্র সারথি।।৪৮
সন্দীপনি নাম রাখে দেব অন্তর্যামী।৪৯
পরাশর নাম রাখে ত্রিলোকের স্বাম।।৫০
পদ্মযোনী নাম রাখে অনাদির আদি।৫১
নট-নারায়ন নাম রাখিল সম্বাদি।।৫২
হরেকৃষ্ণ নাম রাখে প্রিয় বলরাম।৫৩
ললিতা রাখিল নাম বাদল-শ্যাম।।৫৪
বিশাখা রাখিল নাম অনঙ্গমোহন।৫৫
সুচিত্রা রাখিল নাম শ্রীবংশীবদন।।৫৬
আয়ন রাখিল নাম ক্রোধ-নিবারণ।৫৭
চন্ডকেশী নাম রাখে কৃতান্ত-শাসন।।৫৮
জ্যোতিষ্ক রাখিল নাম নীলকান্তমণি।৫৯
গোপীকান্ত নাম রাখে সুদাম ঘরণী।।৬০
ভক্তগণ নাম রাখে দেব জগন্নাথ।৬১
দুর্বাসা নাম রাখে অনাথের নাথ।।৬২
রাসেশ্বর নাম রাখে যতেক মালিনী।৬৩
সর্বযজ্ঞেশ্বর নাম রাখেন শিবানী।।৬৪
উদ্ধব রাখিল নাম মিত্র-হিতকারী।৬৫
অক্রুর রাখিল নাম ভব-ভয়হারী।।৬৬
গুঞ্জমালী নাম রাখে নীল-পীতবাস।৬৭
সর্ববেত্তা নাম রাখে দ্বৈপায়ণ ব্যাস।।৬৮
অষ্টসখী নাম রাখে ব্রজের ঈশ্বর।৬৯
সুরলোকে নাম রাখে অখিলের সার।।৭০
বৃষভানু নাম রাখে পরম ঈশ্বর।৭১
স্বর্গবাসী নাম রাখে সর্ব পরাৎপর।।৭২
পুলোমা রাখেন নাম অনাথের সখা।৭৩
রসসিন্ধু নাম রাখে সখী চিত্রলেখা।।৭৪
চিত্ররথ নাম রাখে অরাতি দমন।৭৫
পুলস্ত্য রাখিল নাম নয়ন-রঞ্জন।।৭৬
কশ্যপ রাখেন নাম রাস-রাসেশ্বর।৭৭
ভাণ্ডারীক নাম রাখে পূর্ণ শশধর।।৭৮
সুমালী রাখিল নাম পুরুষ প্রধান।৭৯
পুরঞ্জন নাম রাখে ভক্তগণ প্রাণ।।৮০
রজকিনী নাম রাখে নন্দের দুলাল।৮১
আহ্লাদিনী নাম রাখে ব্রজের গোপাল।।৮২
দেবকী রাখিল নাম নয়নের মণি।৮৩
জ্যোতির্ম্ময় নাম রাখে যাজ্ঞবল্ক্য মুনি।।৮৪
অত্রিমুনি নাম রাখে কোটি চন্দ্রেশ্বর।৮৫
গৌতম রাখিল নাম দেব বিশ্বম্ভর।।৮৬
মরীচি রাখিল নাম অচিন্ত্য-অচ্যুত।৮৭
জ্ঞানাতীত নাম রাখে শৌনকাদিসুখ।।৮৮
রুদ্রগণ নাম রাখে দেব মহাকাল।৮৯
সুরগণ নাম রাখে ঠাকুর দয়াল।।৯০
সিদ্ধগণ নাম রাখে পুতনা-নাশন।৯১
সিদ্ধার্থ রাখিল নাম কপিল তপোধন।।৯২
ভাদুরি রাখিল নাম অগতির গতি।৯৩
মৎস্যগন্ধা নাম রাখে ত্রিলোকের পতি।।৯৪
শুক্রাচার্য্য নাম রাখে অখিল বান্ধব।৯৫
বিষ্ণুলোকে নাম রাখে দেব শ্রীমাধব।।৯৬
যদুগণ নাম রাখে যদুকুলপতি।৯৭
অশ্বিনীকুমার নাম রাখে সৃষ্টি-স্থিতি।।৯৮
অর্য্যমা রাখিল নাম কাল-নিবারণ।৯৯
সত্যবতী নাম রাখে অজ্ঞান-নাশন।।১০০
পদ্মাক্ষ রাখিল নাম ভ্রমরী-ভ্রমর।১০১
ত্রিভঙ্গ রাখিল নাম যত সহচর।।১০২
বংকচন্দ্র নাম রাখে শ্রীরূপমঞ্জরী।১০৩
মাধুরা রাখিল নাম গোপী-মনোহারী।।১০৪
মঞ্জুমালী নাম রাখে অভীষ্টপুরণ।১০৫
কুটিলা রাখিল নাম মদনমোহন।।১০৬
মঞ্জরী রাখিল নাম কর্ম্মব্রহ্ম-নাশ।১০৭
ব্রজব নাম রাখে পূর্ণ অভিলাস।।১০৮

দৈত্যারি দ্বারিকানাথ দারিদ্র-ভঞ্জন।
দয়াময় দ্রৌপদীর লজ্জা-নিবারণ।।

স্বরূপে সবার হয় গোলকেতে স্থিতি।
বৈকুন্ঠে ক্ষীরোদশারী কমলার পতি।।

রসময় রসিক নাগর অনুপম।
নিকুঞ্জবিহারী হরি নবঘনশ্যাম।।

শালগ্রাম দামোদর শ্রীপতি শ্রীধর।
তারকব্রহ্ম সনাতন পরম ঈশ্বর।।

কল্পতরু কমললোচন হৃষীকেশ।
পতিত-পাবন গুরু জ্ঞান-উপদেশ।।

চিন্তামণি চতুর্ভুজ দেব চক্রপাণি।
দীনবন্ধু দেবকী নন্দন যাদুমনি।।

অনন্ত কৃষ্ণের নাম অনন্ত মহিমা।
নারদাদি ব্যাসদেব দিতে নারে সীমা।।

নাম ভজ নাম চিন্ত নাম কর সার।
অনন্ত কৃষ্ণের নাম মহিমা অপার।।

শততার সুবর্ণ গো কোটি কন্যাদান।
তথাপি না হয় কৃষ্ণ নামের সমান।।

যেই নাম সেই কৃষ্ণ ভজ নিষ্ঠা করি।
নামের সহিত আছে আপনি শ্রীহরি।।

শুন শুন ওরে ভাই নাম সংকীর্তন।
যে নাম শ্রবণে হয় পাপ বিমোচন।।

কৃষ্ণনাম হরিনাম বড়ই মধুর।
যেই জন কৃষ্ণ ভজে সে বড় চতুর।।

ব্রহ্ম-আদি দেব যারেঁ ধ্যানে নাহি পায়।
সে ধন বঞ্চিত হলে কি হবে উপায়।।

হিরণ্যকশিপুর উদর-বিদরণ।
প্রহ্লাদে করিল রক্ষা দেব নারায়ণ।।

বলীরে ছলীতে প্রভু হইলা বামন।
দ্রৌপদীর লজ্জা হরি কৈলা নিবারণ।।

অষ্টোত্তর শতনাম যে করে পঠন।
অনায়াসে পায় রাধা কৃষ্ণের চরণ।।

ভক্তবাঞ্ছা পূর্ণকারী নন্দের নন্দন।
মথুরায় কংস-ধ্বংস লঙ্কায় রাবণ।।

বকাসুর বধ আদি কালীয়-দমন।
সরোত্তম কহে এই নাম সংকী।।

শ্রী শ্রী বাবা লোকনাথ ব্রহ্মচারীর আদর্শ ও জীবন



বর্ত্তমান পশ্চিমবাংলার অন্তর্গত ২৪ পরগনা জেলার কচুয়া গ্রামে (বাংলা ১১৩৭ সালে) (যদিও জন্মস্থান সম্পর্ক মতভেদ থাকতে পারে)র্ধামিকশ্রেষ্ঠ শ্রীরামনারায়ণ ঘোষাল ও কমলা দেবীর পরিবারের চতুর্থ সন্তান হিসাবে জন্মগ্রহন করেন । উনবিংশ শতকের যোগীশ্রেষ্ঠ মহাপুরুষ বাবা লোকনাথ ব্রহ্মচারী । পিতা রামনারায়ণ চন্দ্রের ইছ্ছা তাঁর চার পুত্রের মধ্যে এক পুত্র সন্ন্যাসধর্ম্ম গ্রহন করে এবং ব্রক্ষজ্ঞান লাভ করে ।

কারণ শাস্ত্রে কথিত আছে যদি বংশে কেউ ব্রহ্মজ্ঞান লাভ করে তবে সেই বংশের সদ্ গতি এবং মুক্তি হয় । শিশু লোকনাথ জন্মগ্রহণের পূর্ব্বে মাতা কমলাদেবীর ইছ্ছানুসারেই পিতা রামনারায়ণ তিন পুত্রের কাহাকেও সন্ন্যাস দিবার বাসনা কার্যে রুপায়িত করিতে পারেন নাই । কারণ মাতা কমলাদেবী কোন সন্তানকেই নিজের কোল হইতে বিদায় দিয়া গৃহত্যাগী করিয়া সন্ন্যাসী করিয়া দিতে সম্নত হন নাই । শিশু দিন দিন বারিতে লাগিল । শুভদিনে অন্নপ্রাশন সম্পন্ন হইল এবং নামকরন হইল লোকনাথ । ভক্তজ্ঞানী পিতার পুত্রের নাম করণেই দুরদশিতার পরিচয় ।

যে শিশু ভবিষ্যতে পৃথিবীর মানুষের মুক্তির পথ দেখাইবে,যাহার দয়ায়,করুণায় মানুষ জীবনে অমৃতের স্বাদ গ্রহণ করিতে সমর্থ হইবে তিনি তো সকলের নাথ তাই লোকনাথ ছাড়া আর উপযুক্ত নাম কই? ক্রমে শিশু হাটিতে শিখিল । খেলিতে হইবে, সঙ্গি কোথায়? সঙ্গী জুটিল এক বালিকা। কিন্তু খেলিবে কি? উপযুক্ত বালকের উপযুক্ত খেলা পূজা-পূজা, ধ্যান-ধ্যান খেলা শুরু হইল । বালিকা খেলার ছলে ফুল সংগ্রহ করে । আর খেলার ছলে ধ্যানে নিমগ্ন হয় ক্রমে তাঁহার চোখ হয় পলকহিন, দেহ হইয়া ওঠে ঋজু,শ্বাস প্রশ্বাস স্তব্ধ,এই ভাবাবেশ দেখে বালিকা ভয় পায় ।

পিতা রামনারয়ণ একদিন এই দৃশ্য দেখিয়া মনের বাসনায় পূর্ণতার ইঙ্গিত পাইয়া আকুল হইয়া উঠিলেন । ছুটিলেন গ্রামের পন্ডিতশ্রেষ্ঠ সর্ব্বশাস্ত্রজ্ঞ মহাজ্ঞানী মহাজন ভগবান চন্দ্র গাঙ্গুলীর নিকট উপযুক্ত গুরুর উপযুক্ত শিষ্যকে তুলিয়া দিবার ব্যবস্তা করিতে । ভগবান গাঙ্গুলি জ্ঞ্যনের পুজারী, বুদ্ধি দিয়ে বিচার করে সবকিছু জানবার প্রবণতা,তিনি জ্ঞানযোগী । তিনি গৃহত্যাগী সন্ন্যাসী না হলেও অনাসক্ত মনোভাব সম্পন্ন,সংসারে থেকেও নেই ।

কালক্রমে লোকনাথের অপর এক খেলার সঙ্গি জুটিয়ে গেল ঐ গ্রামেরই ছেলে,তাঁহারই সমবয়সী বেনিমাধব । শুভদিন উপস্থিত,বালক লোকনাথের শুভ উপনয়ন,সন্ন্যাস গ্রহণের শুভলগ্ন । বালক বেনীমাধব বন্ধুর সন্ন্যাস গ্রহণের সংবাদে পুলকিত হয়ে উঠল । অভি ভাবকদের জানাল নিজ মনের অভিলাষের কথা । সেও গ্রহন করবে সন্ন্যাস । পিতা মাতা আত্নীয় স্বজন সকলে বেনীমাধবকে এই দুরাহ সংকল্প হইতে চ্যুত করিবার চেষ্টা করিলেন কিন্তু সক্ষম হইলেন না । উপনয়নের শুভদিন উপস্থিত । আত্নীয়ের ভিড়ে মুখরিত উৎসব গৃহ ।মাতা কমলা শত আনন্দ ও উৎসাহের মধ্যেও মনে হয় বুকটা যেন একেবারে থালি ।

এবার লোকনাথের অভিষেক । সন্ন্যাস নেবার শুভক্ষণে যাত্রা শুরু । সকলের আগে চললেন লোকনাথ,মাঝখানে বাল্য সুহাদ সঙ্গী বেণীমাধব,পিছনে গুরু ভগবান গাঙ্গুলী। পেছনে পেছনে চললেন মাতা কমলাদেবী, পিতা রামনারায়ন ও অগণিত গ্রামবাসী এই সন্ন্যাসী বালকদের গ্রামের সীমান্তে বিদায় দিতে । দুই কিশোর শির্ষ্যসহ গুরু ভগবান গাঙ্গুলী গৌরীপুর,মধ্যমগ্রাম,পাঁতিপুকুর,কলিকাতা,অতিক্রম করে উপস্থিত হলেন কালিঘাটে । তারা উপস্থিত হলেন হিন্দুদের পবিত্র তীর্থস্থান কালিঘাটে। যাত্রীরা ক্লান্তির নিঃশ্বাস ত্যাগের পর আশ্রয় নিলেন যাত্রীশালার ঘড়ে বিশ্রামের প্রয়োজনের তাগিদে ।
তীর্থক্ষেত্রে সর্বস্থানের সর্ব্বশ্রেণীর মানুষের মিলন ।

বালক লোকনাথ সাধু সন্তানদের দেখে মজা অনুভব করেন । সাধু সন্ন্যাসীরা এই বালকের জ্বালায় অতিষ্ট হয়ে গুরু ভগবানের নিকট নালিশ করলেন-ভগবান শিষ্যদের বোঝালেন জিবনে মানুষ যে রকম ব্যবহার করে তাকেও ঠিক সেইরুপ ব্যবহারই পেতে হয় । অন্যকে দুঃখ দিলে ; সুখ দিলে বিনিময়ে সুখ পাওয়া যাবে । আর তাছাড়া ভবিষ্যতে লোকনাথকেও সাধুদের মত লেংটি পড়ে জীবন কাটাতে হবে ।

লোকনাথের মনে বিস্ময় জাগে । গুরু তার কর্ত্তব্য করে শিষ্যের মনের সমস্যার,সমাধান করে ।ভগবান বোঝালেন সন্ন্যাস জীবনের চিত্র কিন্তু জ্ঞানী বালকের জিজ্ঞাসার শেষ নাই । বালকের প্রত্যেক যুক্তিই বয়স্কজনোচিত । গুরু বুঝলেন এই বালকের ভবিষ্যৎ সফলতার কথা ।

আবার পথ ধরে চললেন অভিযাত্রী ।পথের বাধা বিঘ্ন অতিক্রম করে নদীনালা পার হয়ে অমূল্য বস্তর সন্ধানে । তুছ্ছ করে মানুষের পরম কাম্য কাম,কামিনী,কাঞ্চন,সুখ ভোগ,প্রতিষ্ঠা । আহারে বিহারে স্বাছ্ছন্দ্যকে করেছেন প্রত্যাহার ।মায়ামমতা করে এসেছেন পদদলিত । এই ভাবে দীর্ঘ বার বৎসর অতিক্রম হওয়ার পর গুরু ভগবান গাঙ্গুলী শিষ্যদ্বয় সহ আবার জন্মভুমিতে প্রত্যাবর্ত্তন করেন ।

এই সময়ে হঠাৎ যুবক লোকনাথের সহিত ঐ গ্রামের এক ব্রাহ্মণ বাল্য বিধবার প্রণয় হয় । দিনের পর দিন অতিবাহিত হয় । লোকনাথের মন ক্রমশঃ বিষময় হইতে শুরু করে কিন্তু ভগবান গাঙ্গুলী আরো কিছুদিন অপেক্ষা করার কথা বলেন । ক্রমশঃ তাঁহার মন হইতে নারী জাতির প্রতি সহজাত আকর্ষন লুপ্ত হয় আর তখন ঐ প্রণয়িনীর আকর্ষণ অনুভব করে না । লোকনাথ গুরুর এই আচরণে ক্ষুদ্ব হইয়া চেলা কাঠ দিয়া গুরুকে মারিতে উদ্যত হয় । ভগবান গাঙ্গুলী এই দিনটির আশায়ই বসিয়াছিলেন । তিনি শিষ্যকে বুকে জড়াইয়া ধরিয়া বলিলেন,’এবার তোর পাপা মুক্ত হইয়াছে—এবার তুই চল’।

গুরু শিষ্যদ্বয়কে নিয়ে আসেন লোকালয় হইতে দুরে হিমালয়ের কোলে । নিজে ভিক্ষা করে স্বয়ং রান্না করেন মাতার মতন,সেবা করেন শিষ্যদ্বয়ের । হঠাৎ একদিন লোকনাথ গুরুদেবকে বিদ্যাশিক্ষা দানের জন্য অনুরোধ করেন ।

উত্তরে ভগবান শিষ্যদ্বয়কে জানান যে তাঁহার যত জ্ঞান সঞ্চিত আছে তাহা আস্তে আস্তে কালক্রমে তাহার শিষ্যদের মধ্যে সংক্রামিত হইবে । গুরু শিষ্যদিগকে কঠোর ব্রহ্মচর্য পালন করাইবার উদ্দেশ্যে পর্য্যায়ক্রমে নন্ক্তব্রত,একান্তরা,ত্রিরাত্র পকাহ ও ক্রমে নবরাত্র ও দ্বাবদাহ ও সর্ব্বোপরি মাসাহ ব্রত পালন করাইলেন।

নক্তব্রতে ব্রহ্মচারীগনকে দিবাভাগে উপবাসী থাকিয়া রাত্রে যৎসামান্য আহার করিতে হয় এবং মাসাহ ব্রতে এক মাসকাল পালনের কালে গুরু ভগবান গাঙ্গুলী শিষ্যদিগকে কোনরুপে অঙ্গ সঞ্চালন করিতে দিতেন না । কঠোর মাসাহ ব্রত লোকনাথ দুইবার পালন করেন কিন্তু বেণীমাধব এই ব্রত পালনে অক্ষম হন । সমস্ত ব্রতানুষ্ঠান সমাপ্ত হওয়ার পর লোকনাথ নিজের উরুর উপর পায়েস রন্ধন করিয়া গুরুদেবকে ভোগ দিয়া ব্রহ্মচর্য্যের পরীক্ষা দেন । এরপর ভগবান শিষ্যদ্ধয়কে হটযোগ শিক্ষা দেন চন্দ্র ও সূর্য্যের মিলনই হইল হটযোগ ।

তখন লোকনাথের সমাধি-এমন ছিল যে দেহেতে জল জমে বরফ হয়ে আবার কখন গলিয়া যাইত তাহা টেরও পাইত না । এই অবস্থায় একদিন লোকনাথ গুরুর চরনে পতিত হইয়া কাঁদিয়া আকুল হইলেন যে গুরুর দৌলতে শিষ্য যে ব্রহ্মজ্ঞান লাভ করিয়াছে গুরুর এখনও তাহা হয় নাই ।

এর দীর্ঘদিন পরে বাবা লোকনাথ ডেঙ্গু কর্ম্মকারের সহিত বারদী গ্রামে আসিয়া আশ্রম স্থাপন করেন । ক্রমে ক্রমে ডেঙ্গু কর্ম্মকারের অবস্থা ফিরিয়া যায় । প্রথম প্রথম এই যোগীকে সকলে উপহাস করিত । কিন্তু ঘটনা পরম্পরায় এই মহান যোগীর অলৌকিক কার্য্যাবলী লক্ষিত হওয়ার পর সারা গ্রামে তাঁহার গুণমুগ্ধ শি্য্য ও ভক্তের সংখ্যা স্ফীত হইয়া উঠিল ।

১৬০ বৎসর বয়সে এই মহাজ্ঞানী তপস্বী যোগী দীনজনের পক্ষে বাবা লোকনাথ ব্রহ্মচারী বারদী গ্রামে দেহরক্ষা করেন ।

শ্রীশ্রীবাবা লোকনাথ মহানযোগী ও সিদ্ধ মহাপুরুষ। তিনি মানবের কল্যাণে মহান আদর্শ ও অসংখ্য অমৃত বাণী দিয়ে গেছেন যা অনুসরণ করলে মানব জাতি শান্তি ও স্বস্তি পাবে, মুক্তির পথ তার খুলে যাবে...। তাঁর কিছু অমূল্য বাণীঃ

* সত্যের মতো পবিত্র আর কিছুই নেই। সত্যই স্বর্গমনের একমাত্র সোপানস্বরূপ, সন্দেহ নেই।

* যে ব্যক্তি সকলের সুহৃদ(বন্ধু), আর যিনি কায়মনোবাক্যে সকলের কল্যান সাধন করেন, তিনিই যথার্থ জ্ঞানী।

* গরজ করিব, কিন্তু আহাম্মক (নির্বোধ) হবি না। ক্রোধ করিব কিন্তু ক্রোধান্ধ হবি না।

* দেখ-অর্থ উপার্জন করা ,তা রক্ষা করা,আর তা ব্যয় করবার সময় বিষয় দু:খ ভোগ করতে হয়। অর্থ সকল অবস্থাতেই মানুষকে কষ্ট দেয়। তাই অর্থ ব্যয় হলে বা চুরি হলে তার জন্যে চিন্তা করে কোন লাভই হয় না।

* যে ব্যক্তি কৃতজ্ঞ,ধার্মিক,সত্যাচারী,উদারচিত্ত,ভক্তিপরায়ন,জিতেন্দ্রিয়, মর্যাদা রক্ষা করতে জানে,আর কখনো আপন সন্তানকে পরিত্যাগ করে না,এমন ব্যক্তির সঙ্গেই বন্ধুত্ব করবি।

* ওরে,সে জগতের কথা মুখে বলা যায় না,বলতে গেলেই কম পড়ে যায়। বোবা যেমন মিষ্টির স্বাদ বলতে পারে না, সেই রকম আর কি!

* আমিও তোদের মতো খাই-দাই,মল-মূত্র ত্যাগ করি। আমাকেও তোদের মতই একজন ভেবে নিস। আমাকে তোরা শরীর ভেবে ভেবেই সব মাটি করলি। আমি যে কে, তা আর কাকে বোঝাবো,সবাই তা ছোট ছোট চাওয়া নিয়েই ভুলে রয়েছে আমার প্রকৃত আমি কে।

* সমাধির উচ্চতম শিখরে গিয়ে যখন পরমতত্ত্বে পৌঁছালাম, তখন দেখি আমাতে আর অখিল ব্রহ্মান্ডের অস্তিত্বে কোন ভেদ নেই। সব মিলেমিশে একাকার।

* আমি বহু পাহাড়-পর্বতে ঘুরেছি কিন্তু ব্রাহ্মণ দেখলাম তিনজন। মক্কায় আব্দুল গফুর, ভারতে ত্রৈলঙ্গস্বামী এবং আমি নিজেকে।

শান্তির অপর নাম "সনাতন ধর্ম"


হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে

কুরুক্ষেত্র যুদ্ধ ও ভগবদ্গীতা


যখন কুরুক্ষেত্র যুদ্ধ অবশ্যম্ভাবী হয়ে ওঠে তখন কৃষ্ণ পাণ্ডব এবং কৌরব উভয়পক্ষকেই সুযোগ দেন তাঁর কাছ থেকে সাহায্য হিসেবে দু'টি জিনিসের মধ্যে যেকোন একটি নির্বাচন করতে। তিনি বলেন যে হয় তিনি স্বয়ং থাকবেন অথবা তাঁর নারায়ণী সেনাকে যুদ্ধের জন্য প্রদান করবেন, কিন্তু তিনি নিজে যখন থাকবেন তখন তিনি হাতে অস্ত্র তুলে নেবেন না। পাণ্ডবদের পক্ষে অর্জুন স্বয়ং কৃষ্ণকে গ্রহণ করেন এবং কৌরবদের পক্ষে দুর্যোধন কৃষ্ণের নারায়ণী সেনা গ্রহণ করেন।

কুরুক্ষেত্র যুদ্ধের সময় কৃষ্ণ অর্জুনের রথের সারথির ভূমিকা পালন করেন কারণ তাঁর অস্ত্র ধরার কোন প্রয়োজন ছিল না।
যুদ্ধক্ষেত্রে অবতীর্ণ হয়ে তৃতীয় পাণ্ডব অর্জুন যখন উপলব্ধি করলেন যে যাঁরা তাঁর প্রতিপক্ষ তাঁরা তাঁর আত্মীয়বর্গ এবং অত্যন্ত প্রিয়জন তখন তিনি যুদ্ধের বিষয়ে দ্বিধাগ্রস্ত হয়ে পড়লেন। তিনি সমস্ত আশা ত্যাগ করে তাঁর ধনুক গাণ্ডীব নামিয়ে রাখলেন। তখন কৃষ্ণ অর্জুনকে সেই যুদ্ধের প্রয়োজনীয়তা সম্বন্ধে এক উপদেশ দেন যা ভগবদ্গীতা নামে খ্যাত।

কৃষ্ণ ছিলেন প্রখর কূটবুদ্ধিসম্পন্ন পুরুষ এবং মহাভারতের যুদ্ধ ও তার পরিণতিতে তাঁর প্রগাঢ় প্রভাব ছিল। তিনি পাণ্ডব এবং কৌরবদের মধ্যে শান্তি স্থাপন করতে যথাসম্ভব উদ্যোগী হয়েছিলেন। কিন্তু যখন তাঁর সমস্ত প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়ে যুদ্ধ অনিবার্য হয়ে ওঠে তখন তিনি ক্রূর কূটনীতিকের ভূমিকা গ্রহণ করেন। যুদ্ধকালে পিতৃ-পিতামহের বিরুদ্ধে সঠিক মনোবল নিয়ে যুদ্ধ না করার জন্য তিনি অর্জুনের উপর ক্রুদ্ধ হন। একবার তাঁকে আঘাত করার অপরাধে কৃষ্ণ একটি রথের চাকাকে চক্রে পরিণত করে ভীষ্মকে আক্রমণ করতে উদ্যত হন।

তখন ভীষ্ম সমস্ত অস্ত্র পরিত্যাগ করে কৃষ্ণকে বলেন তাঁকে হত্যা করতে। কিন্তু এরপর অর্জুন কৃষ্ণের কাছে ক্ষমাপ্রার্থনা করেন এবং পূর্ণ উদ্যম নিয়ে যুদ্ধ করার প্রতিজ্ঞা করেন। কৃষ্ণ যুধিষ্ঠির এবং অর্জুনকে নির্দেশ দেন যাতে তারা ভীষ্মের দেওয়া যুদ্ধজয়ের বর ফিরিয়ে দেয়, কারণ ভীষ্ম স্বয়ং সেই যুদ্ধে পাণ্ডবদের প্রতিপক্ষ হিসেবে অবতীর্ণ হয়েছিলেন। ভীষ্মকে এ কথা জানানো হলে তিনি এ কথার অন্তর্নিহিত অর্থ বুঝতে পেরে কীভাবে তিনি অস্ত্র পরিত্যাগ করবেন সে উপায় পাণ্ডবদের বলে দেন।

তিনি বলেন যে, যদি কোন নারী যুদ্ধক্ষেত্রে প্রবেশ করে তবেই তিনি অস্ত্রত্যাগ করবেন। পরের দিন কৃষ্ণের নির্দেশে শিখণ্ডী, অর্থাৎ যিনি পূর্বজন্মে অম্বা ছিলেন তিনি অর্জুনের সাথে যুদ্ধে যোগদান করেন এবং ভীষ্ম তাঁর অস্ত্রসকল নামিয়ে রাখেন। এছাড়াও কৃষ্ণ ধৃতরাষ্ট্রের জামাতা জয়দ্রথকে বধ করতে অর্জুনকে সহায়তা করেন। জয়দ্রথের কারণেই অর্জুনের পুত্র অভিমন্যু দ্রোণাচার্যের চক্রব্যূহে প্রবেশ করেও বেরিয়ে আসার উপায় অজ্ঞাত থাকায় কৌরবদের হাতে নিহত হয়েছিলেন। কৃষ্ণ কৌরবদের সেনাপতি দ্রোণাচার্যের পতনও সম্পন্ন করেছিলেন। তিনি ভীমকে নির্দেশ দিয়েছিলেন অশ্বত্থামা নামক একটি হাতিকে বধ করতে এবং তাৎপর্যপূর্ণভাবে দ্রোণাচার্যের পুত্রের নামও অশ্বত্থামা। এরপর কৃষ্ণের নির্দেশে যুধিষ্ঠির দ্রোণাচার্যকে গিয়ে বলেন যে অশ্বত্থামা নিহত হয়েছেন এবং তারপর খুব মৃদুস্বরে বলেন যে সেটি একটি হাতি। কিন্তু যেহেতু যুধিষ্ঠির কখনও মিথ্যাচার করতেন না তাই দ্রোণাচার্য তাঁর প্রথম কথাটি শুনেই মানসিক ভাবে অত্যন্ত আহত হন ও অস্ত্র পরিত্যাগ করেন। এরপর কৃষ্ণের নির্দেশে ধৃষ্টদ্যুম্ন দ্রোণের শিরশ্ছেদ করেন।

কর্ণের সাথে অর্জুনের যুদ্ধের সময় কর্ণের রথের চাকা মাটিতে বসে যায়। তখন কর্ণ যুদ্ধে বিরত থেকে সেই চাকা মাটি থেকে ওঠানোর চেষ্টা করলে কৃষ্ণ অর্জুনকে স্মরণ করিয়ে দেন যে কৌরবেরা অভিমন্যুকে অন্যায়ভাবে হত্যা করে যুদ্ধের সমস্ত নিয়ম ভঙ্গ করেছে। তাই তিনি নিরস্ত্র কর্ণকে বধ করে অর্জুনকে সেই হত্যার প্রতিশোধ নিতে আদেশ করেন। এরপর যুদ্ধের অন্তিম পর্বে কৌরবপ্রধান দুর্যোধন মাতা গান্ধারীর আশীর্বাদ গ্রহণ করতে যান যাতে তার শরীরের যে অঙ্গসমূহের উপর গান্ধারীর দৃষ্টি নিক্ষিপ্ত হবে তাই ইস্পাতকঠিন হয়ে উঠবে।

তখন কৃষ্ণ ছলপূর্বক তার ঊরুদ্বয় কলাপাতা দিয়ে আচ্ছাদিত করে দেন। এর ফলে গান্ধারীর দৃষ্টি দুর্যোধনের সমস্ত অঙ্গের উপর পড়লেও ঊরুদ্বয় আবৃত থেকে যায়। এরপর যখন দুর্যোধনের সাথে ভীম গদাযুদ্ধে লিপ্ত হন তখন ভীমের আঘাত দুর্যোধনকে কোনভাবে আহত করতে ব্যর্থ হয়। তখন কৃষ্ণের ইঙ্গিতে ভীম ন্যায় গদাযুদ্ধের নিয়ম লঙ্ঘন করে দুর্যোধনের ঊরুতে আঘাত করেন ও তাকে বধ করেন। এইভাবে কৃষ্ণের অতুলনীয় ও অপ্রতিরোধ্য কৌশলের সাহায্যে পাণ্ডবেরা কুরুক্ষেত্র যুদ্ধ জয় করে। এছাড়াও কৃষ্ণ অর্জুনের পৌত্র পরীক্ষিতের প্রাণরক্ষা করেন, যাকে অশ্বত্থামা মাতৃগর্ভেই ব্রহ্মাস্ত্র নিক্ষেপ করে আঘাত করেছিলেন। পরবর্তীকালে পরীক্ষিতই পাণ্ডবদের উত্তরাধিকারী হন।

অন্তরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ বলো সারাক্ষণ



ভাবছো কি তুমি একা একা

কোথায় ডুবালে তব মন,
সময় গেলে পাবেনা সময়
আসিবেনা আর এই শুভক্ষণ।
জাগো জাগো সে নিরন্তর মন
করো শ্রী গোবিন্দের স্বরণ।
দু'দিনের এই ভবো সংসারে
সবি তো মিছে খেলা ঘর,
মায়ার মোহে উল্লাসিত হয়ে
কেবলি সত্যকে করিতেছো পর।
এখনো তো অনেক সময় আছে
জাগিয়ে তুলো তব মন,
সত্যের পথে চলো সদা
অন্তরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ বলো সারাক্ষণ।
শুদ্ধভক্তি বিনয়ী হয়ে
করিলে হরির গুণগান,
ই'হাই তো ভবো পারে কড়ি
তাইতো তিনি বৈকুন্ঠে যান।
কৃষ্ণ কৃষ্ণ বলো মন
ভজ কৃষ্ণ সারাক্ষণ,
আসুন মন আনন্দে করি
সেই মধুরও সংকীর্তন।
হরে কৃষ্ণ, হরে কৃষ্ণ
কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে,
হরে রাম, হরে রাম
রাম রাম, হরে হরে।

কর্মের ফল তো ভোগ করতেই হবে - একটি দৃষ্টান্ত হলো -


কর্মের ফল তো ভোগ করতেই হবে -


একটি দৃষ্টান্ত হলো -

কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধে পিতামহ ভীষ্ম , অর্জুনের
বানে ভূমিতে ধরাশায়ী হয়ে প্রচন্ড বেদনায়
ছটফট করছিলেন । একে একে সবাই উনাকে
দেখতে আসছিলেন । একদিন ভগবান শ্রীকৃষ্ণও
উনাকে দেখতে এলেন ।
শ্রীকৃষ্ণ কে দেখে ভীষ্ম বললেন , " হে
জনার্দন , আমি পূর্ব জন্মেএমন কি পাপ করেছিলাম
যে এই জন্মে এত বড় শাস্তি এত কষ্ট আমাকে
ভোগ করতে হচ্ছে ?" ভগবান বললেন , " আপনি
তো নিজেই পূর্ব জন্মের কথা স্মরন করতে
পারেন , তাহলে আপনি নিজেই দেখুন না আপনি পূর্ব
জন্মে কি পাপ করেছিলেন ? "
ভীষ্ম বললেন , " আমি তো দেখতে দেখতে
গত ১০০ জনমের কর্ম দেখে ফেলেছি , কিন্তু
এই ১০০ জনমের মধ্যে আমি এমন কোনো কর্ম
করিনি যেটাতে আমি এত বড় শাস্তি পেতে পারি । "
ভগবান বললেন , " আপনি কৃপা করে এই ১০০
জনমের ঠিক একটি জনম আগে দেখুন ( অর্থাৎ
১০১ নং জনম ) , উওর আপনি পেয়ে যাবেন । "
তখন পিতামহ ভীষ্ম চোখ বন্ধ করে ধ্যান পূর্বক
দেখতে লাগলেন - ঐ জনমে তিনি একজন খুবই
ধার্মিক রাজা ছিলেন । একদিন তিনি বিশাল সৈন্যদল নিয়ে
কোথাও যাচ্ছিলেন । পথের মাঝে একটি সাপ এসে
তাদের যাত্রায় বাধা হয়ে দাঁড়ায় । এক সৈনিক এসে
বললো , " মহারাজ , একটি সাপ রাস্তার মাঝে বসে
আছে , কি করবো ? " রাজা বললেন , " তুমি
সাপটিকে একটি লাকড়িতে বেঁধে পাশের জঙ্গলে
ফেলে দাও ।"
সৈনিক তাই করলো , কিন্তু সাপটি জঙ্গলে একটি বিশাল
কাঁটার ঝোপের মধ্যে আটকে গিয়ে প্রচন্ড
যন্ত্রনায় ছটফট করতে করতে অবশেষে পাঁচদিন
পর মারা গেল ।
পিতামহ ভীষ্ম তখন ভগবান শ্রীকৃষ্ণ কে বললেন
, " দেখলাম আমার পাপ কর্ম , কিন্তু আমিতো
সাপটিকে বাঁচানোর জন্য জঙ্গলে
ফেলেদিয়েছিলাম , নাহলে তো সাপটি আমার
রথের চাকার নীচে চাপা পরেই মারা যেতো ।"
ভগবান বললেন , " কিন্তু আপনিতো ঐ সাপটির কি
পরিনতি হলো তা একবারও ফিরে দেখলেন না বা ঐ
সাপটিকে বাঁচানোর চেষ্টাও করেন নি , তাই আজ
আপনার এই পরিনাম । অথচ আপনার পুন্য কর্ম এত
বেশী ছিল যে গত ১০০ জনমেও আপনি কোন
পাপের ফল ভোগ করেন নি । "
মানুষ জেনেই হোক বা না জেনেই হোক যে
কর্ম করছে তার ফল ভোগ অবশ্যই করতে হবে
। কেউ এই জনমে বা কেউ পরের জনমে
ভোগ করছে । কুকুর , ছাগল , বাঘ ইত্যাদি জন্তু
জানোয়ারেরা পূর্ব জন্মে এই ধরনের নীচ কর্ম
জেনে শুনে করেছে বলেই তারা এই রুপে
অনেক যাতনার শিকার হচ্ছে ।
তাই বন্ধুরা সাবধানেই প্রত্যেকটি কর্ম করা উচিত ।
ভগবানের নাম স্মরন করে সর্ব কর্ম উনাতে অর্পন
পূর্বকই করা উচিত ।

একবার গজেন্দ্র নামে একটি বৃহৎ হস্তিরাজ ...............



একবার গজেন্দ্র নামে একটি বৃহৎ হস্তিরাজ (হাতি) তার স্ত্রী, সন্তান এবং অন্যান্য স্বজাতিদের নিয়ে সরোবরে গেলেন স্নান করতে। ঠাণ্ডা ও পরিষ্কার জলে তাদের মন অত্যন্ত সতেজ হয়ে গেল এবং তাঁরা তাদের শুঁড় দিয়ে একে অন্যের গায়ে জল ছিটিয়ে খেলা করতে লাগলেন। যখন সেই পদ্মের ন্যায় সুন্দর ও পরিচ্ছন্ন সরোবরে সকলে হাস্যোজ্জ্বল ছিল এবং জলকেলি করছিল, তখন একটি কুমির আকস্মিকভাবে গজেন্দ্রকে আক্রমণ করল এবং দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরল। হস্তি তার বিপুল শক্তি সহকারে বীরোচিত প্রতিরোধ করার চেষ্টা করলেন, কিন্তু নিজেকে মুক্ত করতে পারলেন না। তাকে মৃতবৎ অবস্থায় দেখে তার পত্নীরা কেদে উঠলেন। অন্যান্য হস্তিরা তাকে বাঁচানোর জন্য উপর থেকে টানতে লাগলেন কিন্তু যেহেতু জলের অভ্যন্তরে কুমিরের প্রচণ্ড শক্তি, তাই তাঁরা সফল হতে পারলেন না। সেই যুদ্ধ অনেকক্ষণ চলতে লাগল। ধীরে ধীরে হস্তির শক্তি নিঃশেষ হতে লাগল।
যখন গজেন্দ্র উপলব্ধি করলেন যে , তার নিজের আত্মরক্ষার আর কোনো উপায় নেই এবং তার বন্ধু, আত্মীয় বা স্ত্রী কেউই তাকে রক্ষা করতে পারবে না, তখন গজেন্দ্র প্রাণভয়ে খুবই ভিত হলেন। গজেন্দ্র ভাবলেন, এটা নিয়তির বিধান যে, আমি এই কুমির কর্তৃক আক্রান্ত হয়েছি এবং তাই আমাকে অবশ্যই পরমেশ্বর ভগবানের কাছে আশ্রয় গ্রহণ করতে হবে, যিনি সকলের আশ্রয়দাতা, এমনকি মহাত্মাদেরও।
গজেন্দ্র অত্যন্ত কাতর স্বরে ভগবানের নিকট প্রার্থনা জানালেন এবং শীঘ্রই ভগবান নারায়ণ তার সম্মুখে আবির্ভূত হলেন। গজেন্দ্র ব্যথায় কাতর হওয়া সত্ত্বেও তার শুঁড় দিয়ে একটি পদ্মফুল নিয়ে অনেক কষ্টে ভগবানকে নিবেদন করলেন। ভগবান তৎক্ষণাৎ কুমিরসহ গজেন্দ্রকে জল থেকে উপরে তেনে তুললেন। এরপর ভগবান তার চক্র দ্বারা কুমিরের মস্তক ছিন্ন করলেন, এভাবে গজেন্দ্র রক্ষা পেল। তাই যখনই আমরা নিজেদের সমস্যায় জর্জরিত হব তখন আমাদের গজেন্দ্রের মত ভগবানের আশ্রয় গ্রহণ করা উচিত। এভাবে আমরাও পরমাশ্রয় লাভ করতে পারব। কৃষ্ণ হয়তোবা স্বয়ং আমাদের সম্মুখে আবির্ভূত হবেন না, কিন্তু তিনি অবশ্যই আমাদের সাহায্য করবেন।