Sunday, 9 April 2017

ভগবান শ্রীকৃষ্ণ কেনো গোপীদের বস্ত্র হরণ করেছিলেন?





“ভগবান শ্রীকৃষ্ণ কেনো গোপীদের বস্ত্র হরণ করেছিলেন ?”


একটু ধৈর্য্য ধরে পড়ুন আপনার মনের সমস্ত সংশয় দূর হয়ে যাবে এবং শেয়ার করে অন্যের মনের সংশয় দূর করুন।।


কিছু কুচক্রী মহল প্রায়ই প্রশ্ন করে কৃষ্ণ কেন স্নানরত নারীদের বস্ত্র চুরি করলো ?
.এর উত্তরের শুরুতেই সবাইকে জানাতে চাই বস্ত্র হরণের ঘটনাটি যখন ঘটেছিলো তখন শ্রীকৃষ্ণের বয়স ছিল মাত্র ৫-৬ বছর। তখন গোপীনিরা বস্ত্র হীনভাবে স্নান করতো। যা ছিল সম্পূর্ণরূপে শাস্ত্রবিরুদ্ধ।
.সনাতন শাস্ত্রমতে নগ্ন হয়ে বা বস্ত্রহীনভাবে স্নান করা মহাপাপ। আর তখন গোপীনিরা সেই মহাপাপটিই করছিলো। তারা তাদের শরীরের বস্ত্র নদীর পাড়ে রেখে বস্ত্রহীন হয়ে স্নান করছিলো। আর তাদের সেই মহাপাপের শিক্ষা দিতেই শ্রীকৃষ্ণ সেইদিন তাদের পরিত্যক্ত বস্ত্রগুলো লুকিয়ে রেখেছিলেন।
.কেননা লজ্জা নারীর অন্যতম ভূষণ। কিন্তু সেইসময় গোপীনিরা সেই লজ্জাই পরিত্যাগ করে বস্ত্রহীন হয়ে স্নান করছিলো। অতঃপর কৃষ্ণ যখন তাদের বস্ত্র লুকিয়ে রেখেছিলেন তখন তারা নিরূপায় হয়ে গেলো। এতো প্রাতেঃ নদীর ঠান্ডা জলে তারা জড়োসড়ো হয়ে যেতে লাগলো। কিন্তু বস্ত্রহীন তারা কিভাবে জল থেকে উঠবে?
.তখন অনেক ক্ষমা চাওয়ার পর কৃষ্ণ তাদের বস্ত্র ফেরত দিলেন এবং প্রতিজ্ঞা করালেন যেন তারা আর কখনো বস্ত্রহীন হয়ে স্নান না করে।আর এই ঘটনার মধ্য দিয়েই গোপীনিরা চরম শিক্ষা পেলো এবং পরবর্তীতে তারা আর বস্ত্রহীন হয়ে স্নান করেনি।
অতএব পরিশেষে বলতে চাই কখনো না জেনে বুঝে শ্রীকৃষ্ণের সম্পর্কে কুকথা বলবেন না।

Saturday, 25 March 2017

শ্রীল প্রভুপাদের গল্পে উপদেশ :-




শ্রীল প্রভুপাদের গল্পে উপদেশ


কলিযুগের প্রতিটি জড়-জাগতিক গৃহকে বলা হয় মৈথুনাগার। এই জগতে এমন কিছু স্ত্রী-পুরুষ বিরাজমান আছেন,,যাঁরা আপন প্রিয় পতি-পত্নীকে পরিত্যাগ করে বেশ্যার মত আচরন করে বেড়ায়।
আজকের এই লেখা তাদের জন্য।


শ্রীল প্রভুপাদের গল্পে উপদেশ :-
 
একদা এক পঙ্গু লোক বাস করত। সে ছিল বিবাহিত এবং বেশ্যার প্রতি অত্যন্ত আসক্ত। তাই সে ঐ বেশ্যার আবাসস্থলের কাছেই বসবাস করছিল।
একদিন তাকে দুঃখিত দেখে তার স্ত্রী বলল- হে স্বামী আমার কি কোন ভুল হয়েছে? তখন লোকটি বলল- যদিও আমি তোমাকে বিয়ে করেছি, তবুও আমি ঐ পাশের বাড়ির বেশ্যার প্রতি আসক্ত। আমি ঐ বেশ্যার সঙ্গ উপভোগ করতে চাই।
তখন তার স্ত্রী বলল- আমার কর্তব্য হচ্ছে আমার স্বামীর মনোবাঞ্ছা পূর্ণ করা। যদিও তাকে পরিশোধ করার মত কোন অর্থ আমার নেই। আমি কি করতে পারি ? স্ত্রী লোকটি ভাবল- আমি শারীরিক সেবার মাধ্যমে ঐ বেশ্যাকে সন্তুষ্ট করতে পারি এবং এইভাবে আমি তার প্রাপ্য অর্থ পরিশোধ করতে পারি।
তাই ঐ বেশ্যা যখন বাইরে যেত, তখন তিনি বেশ্যার গৃহটি পরিষ্কার করে রাখতেন। বেশ্যা এসে দেখত গৃহটি খুব পরিষ্কার। কেন? কে করে এই সব কাজ? আমাকে দেখতেই হবে। তাই একদিন বেশ্যাটি ঘরের কোণে লুকিয়ে ছিল।
পঙ্গু লোকটির স্ত্রী আবার আসল এবং পরিষ্কার করতে শুরু করল।
তখন ঐ বেশ্যাটি এসে বলল, তুমি কেন এই বাসা পরিস্কার করছ?
স্ত্রী লোকটি বলল- আমার স্বামী তোমার প্রতি খুব আসক্ত এবং তোমার সঙ্গ উপভোগ করতে চায়। কিন্তু আমরা এত গরিব যে, তোমার প্রাপ্য অর্থ দিতে অক্ষম। তাই আমি তোমার জন্য এই সামন্য সেবা করছি।
বেশ্যাটি বলল, ঠিক আছে আজ রাতে তোমার স্বামীকে পাঠিয়ে দিবে। সেই রাতে বেশ্যা অনেক সু-স্বাদু খাদ্য তৈরী করে একটি সোনার ও একটি সিলভারের থালায় তা সাজিয়ে রাখল।
যখন পঙ্গু লোকটি আসল, তখন বেশ্যাটি সেই খাদ্য গ্রহণ করার জন্য অনুরোধ করল। সকল খাদ্য দ্রব্য খাওয়ার পর বেশ্যাটি বলল- দুইটি থালার মধ্যে কোনটি বেশি ভাল লেগেছে।
লোকটি বলল- স্বাদ তো একই রকম, শুধু ভিন্ন পাত্রে পরিবেশন করেছ।
তখন বেশ্যাটি বলল, তুমি ভাবছ তোমার স্ত্রীর চেয়ে আমার শরীরটি বেশি উপভোগ্য, কিন্তু না প্রকৃতপক্ষে তা একই। শুধুমাত্র বাহ্যিক আবরণটিই ভিন্ন।

হিতোপদেশ :-

প্রত্যেকটি জীবের বাহ্যিক দেহ আবরণ পঞ্চ মহাভূত আকাশ, মাটি, বায়ু, অগ্নি ও জল দ্বারা নির্মিত।